২৩/০৪/২০২৬
১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুনারুঘাটে সীতার হাওড় লেক: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হাজারো পর্যটক

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক:হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা যেন প্রকৃতির এক অনন্য ক্যানভাস। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, বিশাল রেমাকালেঙ্গা অভয়ারণ্য, পরীর বিল, শাপলা বিল, দমদমিয়া লেক ও গ্রীনল্যান্ড পার্কের পাশাপাশি ২৩টি চা-বাগানজুড়ে বিস্তৃত রয়েছে অপরূপ সব পর্যটন সম্ভার। এরই মধ্যে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় উঠে এসেছে নতুন এক পর্যটন কেন্দ্র— সীতার হাওড় লেক

চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও ইউনিয়নের অন্তর্গত নাসিমাবাদ চা-বাগানের ভেতরে অবস্থিত এই লেকটির একটি ভিডিও ভাইরাল হতেই সেখানে প্রতিদিন ভিড় করছেন হাজারো ভ্রমণপিপাসু। স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুবায়ের হোসেন তাঁর ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করলে মুহূর্তেই সেটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এরপর থেকেই নতুন আলোচনায় চলে আসে সীতার হাওড় লেক।

জুবায়ের বলেন, “নিজের গ্রামের এত সুন্দর একটি জায়গা আগে কখনও চোখে পড়েনি। হঠাৎ করে ঘুরতে গিয়ে জায়গাটি আবিষ্কার করি। পাশেই রয়েছে সীতার হাওড়, তাই লেকটির নাম রেখেছি সীতার হাওড় লেক।”

শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটিতে লেকটির চারপাশে হাজার হাজার মানুষের পদচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চা-বাগানের সবুজ টিলা আর নির্মল লেকের পানি পর্যটকদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করছে। অনেকে আবার দুপুরের রোদ উপেক্ষা করে লেকে গোসল ও সাঁতারেও মেতে উঠছেন। লেকের পাড়ে বসে গেছে অস্থায়ী দোকান, এমনকি দেখা যাচ্ছে ঘোড়ার উপস্থিতিও।

তবে এত পর্যটকের ভিড়ের ফলে দেখা দিয়েছে পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা। লেকপাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ময়লা-আবর্জনা। কোথাও কোথাও প্লাস্টিক বোতল, খাবারের প্যাকেট ও ব্যবহৃত থালাবাসনের স্তূপ। সচেতন কিছু স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়মিতভাবে লেকপাড় পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন। তারা দোকানিদের ময়লা ব্যবস্থাপনায় নিজস্ব উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছেন।

ঢাকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারহান আরিফ বলেন, “যাতায়াত ব্যবস্থাটা উন্নত হলে এই পর্যটনকেন্দ্রে আরও বেশি দর্শনার্থী আসবেন। তবে পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

চুনারুঘাট শহর থেকে পারকুল বা আতিকপুর হয়ে সীতার হাওড় লেকে পৌঁছানো যায়। সহজ যোগাযোগের কারণে এটি হয়ে উঠছে স্থানীয় পর্যটনের নতুন ট্রেন্ড। তবে এই জনস্রোতে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছেন চা-বাগান কর্তৃপক্ষ। বাগানের অভ্যন্তরে এভাবে অবাধ পর্যটন চলতে থাকলে উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনায় সমস্যা হতে পারে বলে তাঁরা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ইতিমধ্যেই অনেক পর্যটককে তারা লেকে যেতে নিরুৎসাহিত করছেন।

চা-বাগানভিত্তিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিয়ে এখনই সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি—এমন মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সতর্কতা ও আহ্বান
সীতার হাওড় লেক ভ্রমণে আগ্রহী পর্যটকদের প্রতি আহ্বান, প্রকৃতির এই উপহার রক্ষায় সবাই যেন পরিবেশ সচেতনতা বজায় রাখেন। প্রকৃতি উপভোগের পাশাপাশি তার সংরক্ষণেও সক্রিয় ভূমিকা নেয়া আমাদের সকলের দায়িত্ব।

Read Previous

যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক কমাতে বোয়িংসহ মার্কিন পণ্যে বাংলাদেশের আগ্রহ বাড়ছে

Read Next

হাতিরঝিলের ওয়াটার বাস চালু, স্বস্তি ফিরেছে যাত্রী ও পর্যটকদের মাঝে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular