১৩/০৫/২০২৬
৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অ্যান্টার্কটিকা কেন বিমান চলাচলের ‘নিষিদ্ধ অঞ্চল’ রয়ে গেছে

ছবি: প্রতীকী

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : বিশ্বের মানচিত্রে উত্তর গোলার্ধের দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইটগুলো নিয়মিত উত্তর মেরুর কাছাকাছি দিয়ে যাতায়াত করে। নিউইয়র্ক থেকে এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্য বা ইউরোপ থেকে টোকিও যাওয়ার পথে গ্রিনল্যান্ড ও উত্তর মহাসাগরের ওপর দিয়ে ‘গ্রেট সার্কেল রুট’ অনুসরণ করে বিমানগুলো শত শত মাইল দূরত্ব ও জ্বালানি সাশ্রয় করে। কিন্তু দক্ষিণ গোলার্ধে চিত্রটি একেবারে ভিন্ন। অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের ওপর দিয়ে বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান উড়ে যাওয়ার দৃশ্য প্রায় দেখাই যায় না।

ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যার বণ্টন ও বাণিজ্যিক চাহিদার পার্থক্য এই বৈষম্যের মূল কারণ। উত্তর গোলার্ধের প্রধান শহরগুলো এমনভাবে অবস্থিত যে মেরু অঞ্চলের ওপর দিয়ে সংক্ষিপ্ত রুট সম্ভব। অন্যদিকে সিডনি, জোহানেসবার্গ বা সান্তিয়াগোর মতো দক্ষিণ গোলার্ধের বড় শহরগুলোর মধ্যে সরাসরি অ্যান্টার্কটিকা পাড়ি দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। অধিকাংশ রুটই বিশাল দক্ষিণ মহাসাগরের ওপর দিয়েই চলে।

সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো নিরাপত্তা ও জরুরি অবতরণের সুবিধা। উত্তর মেরু অঞ্চলে আলাস্কা, কানাডা, আইসল্যান্ডসহ একাধিক আধুনিক বিমানবন্দর রয়েছে। কিন্তু অ্যান্টার্কটিকায় কোনো বাণিজ্যিক বিমানবন্দর নেই। সেখানে শুধু বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্রের সীমিত রানওয়ে রয়েছে, যা যাত্রীবাহী বিমানের জন্য উপযুক্ত নয়। এছাড়া পৃথিবীর সবচেয়ে ঠান্ডা, ঝড়ো ও প্রতিকূল আবহাওয়ার এই মহাদেশে তাপমাত্রা মাইনাস ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যায়, ঘন তুষারঝড় ও দীর্ঘ অন্ধকার সময় উদ্ধার তৎপরতাকে প্রায় অসম্ভব করে তোলে।

জনসংখ্যার ঘনত্ব ও অর্থনৈতিক চাহিদার অভাবও এর অন্যতম কারণ। অ্যান্টার্কটিকায় কোনো স্থায়ী জনবসতি বা বাণিজ্যিক কেন্দ্র নেই। ফলে এয়ারলাইনগুলোর কাছে এই রুট আর্থিকভাবে লাভজনক নয়। ইতিহাসেও উত্তর মেরু সামরিক-কৌশলগত গুরুত্ব পেয়ে অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটেছে, যা পরে বাণিজ্যিক উড়ানে সহায়ক হয়েছে। কিন্তু অ্যান্টার্কটিকায় এমন কোনো প্রতিযোগিতা ছিল না। ১৯৭৯ সালে এয়ার নিউজিল্যান্ডের টুরিস্ট ফ্লাইট মাউন্ট ইরেবাসে বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাও এই অঞ্চলে উড়ানের ঝুঁকি স্পষ্ট করে দিয়েছে।

তবে বর্তমানে কিছু এয়ারলাইন, যেমন লাতাম ও কোয়ান্টাস, অনুকূল বায়ুপ্রবাহের সুবিধা নিয়ে অ্যান্টার্কটিকার উপকূলীয় এলাকার কাছাকাছি দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করে। আধুনিক প্রযুক্তি সত্ত্বেও অবকাঠামো ও চরম আবহাওয়ার কারণে অ্যান্টার্কটিকা এখনো বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের বাইরেই রয়ে গেছে।

সূত্র: সিম্প্লিফাইং ডটকম

Read Previous

গরমে কিভাবে এবং কেন ভ্রমণ করবেন

Read Next

ইইউ চালু করছে ‘এক যাত্রা, এক টিকিট’ নীতি, ট্রেন ভ্রমণ সহজ হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular