
পর্যটন সংবাদ প্রতিবেদক: বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণে একটি আশাব্যঞ্জক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সুন্দরবনের প্রাপ্তবয়স্ক বাঘের সংখ্যা ২০ শতাংশ বাড়িয়ে ১৪৫-এ উন্নীত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে নানা কার্যকর উদ্যোগ। বর্তমানে ক্যামেরা ট্র্যাপ জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা ১২৫টি, যার মধ্যে ৮৪টি প্রাপ্তবয়স্ক।
এই পরিকল্পনা সফল করতে সুন্দরবনের ৫১ শতাংশ এলাকাকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বাঘের প্রজনন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রজনন মৌসুমে তিন মাসের জন্য পর্যটকসহ সকল বনজীবীর প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে পূর্ব ও পশ্চিম সুন্দরবনে।
বন বিভাগের তথ্যমতে, গত ছয় বছরে বাঘের সংখ্যা ১১টি বেড়েছে। সাতক্ষীরা রেঞ্জে ২১টি, খুলনা রেঞ্জে ১৩টি এবং চাঁদপাই রেঞ্জে ৫০টি বাঘের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে—জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, আবাসস্থল সংকোচন, খাদ্য সংকট এবং চোরাশিকারের মতো ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাঘ সংরক্ষণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
২০০১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সুন্দরবনে ৫৫টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ২৫টি চোরাশিকারী এবং ১৪টি স্থানীয় জনতার হাতে প্রাণ হারিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বাঘের নিরাপত্তা, খাদ্য সরবরাহ ও বনজীবীদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, “সুন্দরবনে এখনও মানুষের আগ্রাসন সীমিত, যা একটি ইতিবাচক দিক। যদি বর্তমান পরিবেশ বজায় থাকে, তবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব।”
অন্যদিকে সুন্দরবন একাডেমির পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, “যেসব এলাকায় বাঘ বেশি, সেখানে হরিণ কমে যাচ্ছে। ফলে বাঘের খাদ্য সংকট তৈরি হচ্ছে। হরিণ শিকার রোধ না করলে বাঘ সংরক্ষণে সমস্যা দেখা দেবে।”
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, “বাঘের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাচার একটি বড় হুমকি। এই চক্র রোধে বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোরভাবে তৎপর হতে হবে।”
বিশ্বের ১৩টি বাঘসমৃদ্ধ দেশের মতো বাংলাদেশও আজ ২৯ জুলাই ‘বিশ্ব বাঘ দিবস’ পালন করছে। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। তাই সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ শুধু বন রক্ষার কাজ নয়, এটি একটি জাতীয় ও বৈশ্বিক দায়িত্ব।
পর্যটন সংবাদ মনে করে, সুন্দরবনে পর্যটনের প্রসার ঘটাতে হলে বাঘসহ অন্যান্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সংরক্ষণের সঙ্গে পর্যটনের ভারসাম্য বজায় রাখলেই সুন্দরবন হয়ে উঠবে নিরাপদ ও টেকসই পর্যটন গন্তব্য।



