
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : দেশের বিমান চলাচল নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সব বিমানবন্দরে অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিমানবন্দর এলাকায় অনুমতিহীন কোনো ড্রোন উড়লেই তা দ্রুত শনাক্ত করে নিষ্ক্রিয় বা নামিয়ে ফেলা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নো-ড্রোন জোন’ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিমানবন্দর এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই ড্রোন উড্ডয়নের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সরকার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ ড্রোন ওড়ালে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এমনকি গণমাধ্যমের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে বিমান মন্ত্রণালয় বেবিচককে বিমানবন্দরের সীমানার বাইরে সতর্কীকরণ নোটিশ টানানোর নির্দেশ দিয়েছে।
এই উদ্যোগের পেছনে নির্দিষ্ট কারণও রয়েছে। গত ১৩ জানুয়ারি বিমান মন্ত্রণালয় থেকে বেবিচক চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়, গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টের সময় অনুমতিহীন ড্রোন উড্ডয়ন মনিটর করতে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে (এপিবিএন) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৯ ডিসেম্বর জাতীয় বীর শহীদ ওসমান হাদির মরদেহ গ্রহণ অনুষ্ঠানের সময় কিছু ইলেকট্রনিক মিডিয়া অনুমতি ছাড়াই ড্রোন উড়িয়ে ভিডিও ধারণ করে, যখন বিমান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এর আগেও স্ক্রল ও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিমানবন্দর এলাকায় ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। বিমানবন্দর ও এর আশপাশ এলাকা অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় বেবিচক প্রণীত ‘ড্রোন নিবন্ধন ও উড্ডয়ন নীতিমালা-২০২০’ অনুযায়ী অনুমোদনহীন ড্রোন উড্ডয়ন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ড্রোনের সঙ্গে বিমানের সংঘর্ষ হলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। একই সঙ্গে রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়েতে বাধা সৃষ্টি, নজরদারি বা নাশকতার ঝুঁকিও রয়েছে। এসব আশঙ্কা দূর করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বিমানবন্দর এলাকায় আধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা চালু করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
বেবিচকের সদস্য (পরিচালন ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান জানান, বিমানবন্দরের আশপাশে অনুমতিহীন ড্রোন উড্ডয়ন ঠেকাতে অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অনুমতি ছাড়া বিমানবন্দরের কাছাকাছি কোনো ড্রোন উড়ানো যাবে না।
বিমান মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে আরও জানানো হয়েছে, সরকারি ক্রয় আইন অনুসরণ করে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এই আধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি সংগ্রহ করা হবে। বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের আকাশপথ ও বিমানবন্দর নিরাপত্তা নতুন মাত্রা পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



