
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক:
• নতুন নির্দেশনা সম্পর্কে জানেন না অনেক যাত্রী
• নিয়ম মানাতে নেই কর্তৃপক্ষের সক্রিয়তা
• এখনো ভিড় করছেন স্বজনরা, বাড়ছে বিশৃঙ্খলা
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিবেশ এখনো আগের মতোই—জটলা, বিশৃঙ্খলা আর স্বজনদের ভিড়ে থমকে যাত্রীদের চলাচল। বহির্গমন ও আগমন টার্মিনালের সামনে মানুষের এমন ভিড় যে দূর থেকে বোঝার উপায় নেই এটি দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নাকি রাজধানীর কোনো মাছ বাজার।
মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সকালে টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২ ঘুরে দেখা যায়, ছয়টি ফটকের প্রতিটিতে যাত্রীদের সঙ্গে তাদের স্বজনদের বিশাল ভিড়। কেউ ধূমপান করছেন, কেউ ফ্লোরে বসে পান চিবাচ্ছেন, কেউবা ফোনে উচ্চস্বরে কথা বলছেন। ফটকের আশপাশে দেখা গেছে কান্নাকাটি, হৈচৈ, আবেগঘন বিদায়ের দৃশ্য। অথচ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, যাত্রীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুজন প্রবেশ করতে পারবে।
গত ২৫ জুলাই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানায়, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যানজট এড়াতে ২৭ জুলাই থেকে এ নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। কিন্তু সরেজমিন দেখা গেছে, সেই নির্দেশনার বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। নেই সচেতনতা বাড়াতে কোনো প্রচার-প্রচারণাও।
এ প্রসঙ্গে শাহজালাল বিমানবন্দরে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “ফটকের সামনে এত মানুষের জটলা থাকে, মনে হয় কোনো রাজনৈতিক সমাবেশ হচ্ছে। যাত্রীদের সঙ্গে আসা লোকজন কথা শোনেন না, আবার বলপ্রয়োগও করা যায় না।”
টাঙ্গাইলের বাসিন্দা নাজমুল হোসেন মঙ্গলবার সকালে একটি ফ্লাইটে সৌদি আরবের জেদ্দা যান। তাকে বিদায় দিতে আসেন বাবা, মা, দুই বোন, ভগ্নিপতি ও ভাতিজা। নাজমুল ভেতরে ঢোকার পরও তার স্বজনরা ফ্লোরে বসে ছিলেন। তার বাবা আবদুল হালিম বলেন, “ছেলেকে বিদেশ পাঠাচ্ছি, স্বাভাবিকভাবেই সবাই মিলে তাকে বিদায় জানাতে এসেছি।”
অন্যদিকে, দীর্ঘ পাঁচ বছর মালয়েশিয়ায় কাটিয়ে দেশে ফেরেন ফরিদপুরের মেহেদী হাসান। তাকে স্বাগত জানাতে তার পরিবারের ছয় সদস্য এসেছেন বিমানবন্দরে। মেহেদী বলেন, “বিদেশে এভাবে কেউ বিমানবন্দরে আসে না। নিজে একা গিয়েছি, একাই ফিরেছি। ওখানে পরিবেশ অনেক নিয়ন্ত্রিত।”
একই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন মিরপুরের বাসিন্দা নূরুল আমিন। তিনি ব্যবসায়িক কাজে মঙ্গলবার সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাত যান। তিনি বলেন, “বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের বিমানবন্দরে গিয়েছি। কোথাও এমন বিশৃঙ্খলা দেখি না। আমাদের বিমানবন্দরে শৃঙ্খলা নেই, ব্যবস্থাপনা দুর্বল। এতে বিদেশিদের কাছে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়।”
শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মাহবুব আল কায়সার ‘পর্যটন সংবাদ’-কে বলেন, “আমরা নির্দেশনা জারি করার পর ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। তবে অনেকে এখনো জানেন না বিধায় শুরুতে কিছুটা নমনীয়তা দেখানো হচ্ছে। আগামী সপ্তাহ থেকে নিয়ম মানতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বিমানবন্দর একটি দেশের দর্পণ। বিদেশি পর্যটকরা প্রথম এখানেই দেশের মুখোমুখি হন। তাই সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। যাত্রীদের সঙ্গে অনধিক দুজন যেন বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন, আমরা সেটিই নিশ্চিত করতে চাই।”
প্রতিদিন শাহজালাল বিমানবন্দরে ২০ হাজার যাত্রী চলাচল করেন এবং গড়ে ৮০ হাজার স্বজন এই যাত্রীদের বিদায়-স্বাগত জানাতে আসেন। এ পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরজুড়ে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তা দেশের পর্যটন ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
সংবাদদাতা: বিশেষ প্রতিবেদক, পর্যটন সংবাদ



