
ছবি : সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আজ শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই জানাজা আয়োজনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে একাধিক নির্দেশনা জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জানাজায় অংশগ্রহণে আগ্রহী ব্যক্তিদের কোনো ধরনের ব্যাগ, ভারী বস্তু কিংবা সন্দেহজনক সামগ্রী বহন না করতে হবে। সংসদ ভবন এলাকা ও আশপাশে নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে থাকবে এবং প্রবেশপথে তল্লাশি জোরদার করা হবে।
এদিকে, জানাজা উপলক্ষে বিপুল মানুষের সমাগম হবে—এমন আশঙ্কায় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মানিক মিয়া এভিনিউতে যান চলাচল সাময়িকভাবে সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএমপি। দুপুরের জানাজা ঘিরে খেজুর বাগান ক্রসিং থেকে মানিক মিয়া এভিনিউ পর্যন্ত অংশে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। এই সময় সাধারণ মানুষকে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ডিএমপি প্রকাশিত ট্রাফিক নির্দেশনায় বলা হয়, মিরপুর রোড থেকে ফার্মগেট অভিমুখী যানবাহন গণভবন ক্রসিং হয়ে লেক রোড, উড়োজাহাজ ক্রসিং ও বিজয় সরণি ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। একইভাবে ফার্মগেট থেকে মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে ইন্দিরা রোডগামী যানবাহনকে খেজুর বাগান ক্রসিং, উড়োজাহাজ ক্রসিং ও লেক রোড ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
ধানমন্ডি থেকে ফার্মগেটগামী যানবাহনের জন্য আসাদগেট ও গণভবন ক্রসিং হয়ে ঘুরপথ নির্ধারণ করা হয়েছে। আসাদগেট থেকে ফার্মগেট ক্রসিংয়ের দিকেও একই ধরনের বিকল্প রুট ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বা ইন্দিরা রোড হয়ে ধানমন্ডিগামী যানবাহনকে খেজুর বাগান ক্রসিং হয়ে উড়োজাহাজ ক্রসিং ও লেক রোড ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
ডিএমপি আরও জানিয়েছে, জানাজা শেষে মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে ব্লকেড তুলে নেওয়া হলে মিরপুর রোড থেকে দক্ষিণমুখী যানবাহন শ্যামলী ও গণভবন হয়ে ধানমন্ডি ২৭-এর দিকে চলাচল করতে পারবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েগামী যানবাহনের ক্ষেত্রে জানাজা চলাকালীন সময় ফার্মগেট এক্সিট র্যাম্পের পরিবর্তে এফডিসি (হাতিরঝিল) র্যাম্প ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ঘোষণায় জানানো হয়, পরিবারের ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে শরিফ ওসমান হাদিকে কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জানাজার স্থান হিসেবে মানিক মিয়া এভিনিউ নির্ধারণ করা হয়, যদিও নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে জানাজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়।
শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পেছনের ঘটনাপ্রবাহ এখনো দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগ কার্যক্রমে অংশ নিতে গেলে চলন্ত একটি মোটরসাইকেল থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুলিটি তার মাথায় লাগলে তিনি গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে অস্ত্রোপচার করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য পরবর্তীতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে টানা কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।
১৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় মরদেহবাহী ফ্লাইটটি। এরপর থেকেই জানাজা ও দাফন ঘিরে প্রস্তুতি চলছিল।
আজকের জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে জানাজা সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।



