রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের প্রধান জামাত

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : যুদ্ধ ও অশান্তির ছায়ায় বিশ্ব যখন অস্থির, তখন বাংলাদেশের জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে উঠল শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার আহ্বান। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় পর—প্রায় ৩৬ বছর পর—রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করলেন, যা দেশবাসীর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সকাল ৮টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশ করেন। তার ৫ মিনিট পর আসেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। দুই শীর্ষ নেতা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন। এই জামাতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। নামাজ শেষে সবাই দুই হাত তুলে মোনাজাতে অংশ নেন।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক এই জামাতে ইমামতি করেন। খুতবা শেষে মোনাজাতে দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। বিশেষভাবে প্রার্থনা করা হয় সারা বিশ্বে চলমান যুদ্ধ, ফিতনা-ফ্যাসাদ ও সংঘাত বন্ধের জন্য। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনজীবনের ওপর পড়লেও, ঈদের এই উৎসব এসেছে আনন্দ, ক্ষমা ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে। মুসল্লিরা ৯ মাসের সিয়াম সাধনার পর এই দিনে আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত কামনা করেছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর ঈদের দিন ঝড়-বৃষ্টির আভাস দিলেও সকালে আকাশ মেঘলা থাকলেও বৃষ্টি হয়নি। ফলে জামাত নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ভোর থেকেই সারিবদ্ধ হয়ে ময়দানে প্রবেশ করেন। সকাল ৭টা নাগাদ ময়দানে প্রবেশের লাইন দীর্ঘ হয়ে যায়। প্রবেশপথে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশি করা হয়। পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়। মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব ও শিক্ষা ভবন এলাকায় তিনটি প্রধান প্রবেশপথে রোড ব্যারিকেড স্থাপন করা হয় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য। পুলিশের টহল ও অবস্থান ছিল চারপাশে। নির্ধারিত সময়ের আগেই ময়দান পরিপূর্ণ হয়ে যায়। অনেকে জায়গা না পেয়ে আশপাশের সড়কে নামাজ আদায় করেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় মূল প্যান্ডেলে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা ছিল। নারীদের জন্য আলাদা নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়। সড়ক ও খোলা জায়গা মিলিয়ে মোট ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায়ের সুযোগ পান।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৭টায় প্রথম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেলা পৌনে ১১টা পর্যন্ত আরও চারটি জামাত হয়। রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন ঈদগাহ, জামে মসজিদ ও পাড়া-মহল্লায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এবারের ঈদ জামাত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম ঈদ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে এই প্রথম ঈদ উদযাপন করছেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর একসঙ্গে নামাজ আদায় দেশে ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। মোনাজাতে বিশ্বশান্তির প্রার্থনা বিশ্বের যুদ্ধ-বিধ্বস্ত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে স্পষ্ট করে।

ঈদের এই দিনে দেশবাসী শান্তি, সৌহার্দ্য ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় একত্রিত হয়েছে। আল্লাহ যেন বিশ্বের সব অশান্তি দূর করে মানবজাতিকে শান্তির পথ দেখান—এমন প্রার্থনাই আজ উঠেছে জাতীয় ঈদগাহ থেকে।

Read Previous

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে মিরসরাইয়ে পর্যটকদের ঢল নামার সম্ভাবনা: পাহাড়-সমুদ্র-ঝরনার অপরূপ মেলা

Read Next

সিলেটের গোয়াইনঘাট: ঈদুল ফিতরের ছুটিতে প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular