যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিতে বড় পতন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উদ্বেগ চরমে

ছবি : সংগৃহীত

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের গন্তব্য। উন্নত শিক্ষা, গবেষণার সুযোগ আর উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের প্রতিশ্রুতি—সব মিলিয়ে দেশটি ছিল বিশ্বজুড়ে শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ। কিন্তু সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, এই আকর্ষণ এখন আর আগের মতো নেই। বরং যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির হার এক ধাক্কায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, আর বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গভীর দুশ্চিন্তায়।

জরিপে দেখা যাচ্ছে, দেশের ৮০০–এর বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন আন্তর্জাতিক ভর্তির হার কমেছে প্রায় ১৭ শতাংশ। মোট বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুব বেশি না কমলেও—মাত্র ১ শতাংশ—নতুন ভর্তির এই তীব্র পতন ভবিষ্যতের জন্য বড় সতর্ক সংকেত। কারণ, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা শুধু শ্রেণিকক্ষ ভরাট করে না, তারা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ডলার যোগ করে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্পষ্ট অভিযোগ, প্রশাসনিক জটিলতাই শিক্ষার্থী কমার প্রধান কারণ। ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে ভিসা প্রক্রিয়া কঠোর হয়; অ্যাপয়েন্টমেন্ট মিলতে দেরি, অতিরিক্ত যাচাই, অকারণে প্রত্যাখ্যান—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভর্তি হতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের মনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ ভেবেই বসছে, দেশটিতে পড়তে গেলে হয়তো সেমিস্টার নষ্ট হবে, বা শেষ মুহূর্তে ভিসা বাতিল হতে পারে।

শিক্ষার্থীদের মনোভাবেও বড় পরিবর্তন এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক নাগরিকদের প্রতি আগের মতো সদয় নয়। ভিসা স্থগিত করা, হঠাৎ নীতি পরিবর্তন, বা হাজারো শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল—এসব সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মনে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে। ফলে এখন তারা ক্রমশ কানাডা, ইউরোপ বা অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঝুঁকছে।

অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন কখনো কঠোর নীতি নিচ্ছে, আবার কখনো বলছে তারা আরও বিদেশি শিক্ষার্থী চাই—বিশেষ করে চীনা শিক্ষার্থী—কারণ তারা বেশি টিউশন ফি দেয়। নীতির এই অস্থিরতা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও বিভ্রান্ত করছে।

যদি এই প্রবণতা চলতে থাকে, তবে মার খাবে কয়েকটি বড় ক্ষেত্র—গবেষণা তহবিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুজাতিক পরিবেশ, স্থানীয় অর্থনীতি, এমনকি দেশটির দীর্ঘমেয়াদি মানবসম্পদ উন্নয়ন।
সংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্র যে দেশ একসময় হাজারো স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থীকে টেনে নিত, সেই দেশ এখন নিজস্ব নীতির কারণে তাদের হাতছাড়া করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাই দ্রুত নীতি পরিবর্তনের দাবি তুলছে। তারা বলছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আস্থা ফিরে না পেলে দেশের শিক্ষা খাত আরও বড় ধাক্কার মুখে পড়বে।

Read Previous

বাংলাদেশের আকাশে ব্যস্ততা বাড়ছে: অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতিযোগিতা, সুযোগ আর নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত

Read Next

মালয়েশিয়া বাংলাদেশি রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে এগিয়ে যাচ্ছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular