ভাঙছে বিমানের একচেটিয়া আধিপত্য: ঢাকার তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রী হ্যান্ডলিংয়ে আসছে দ্বিতীয় অপারেটর

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রীসেবা সংক্রান্ত গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একক আধিপত্যের অবসান ঘটতে চলেছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বিমানের পাশাপাশি আরেকটি বেসরকারি বা বিদেশি অপারেটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পুরোপুরি বিমানের হাতেই থাকবে।

পরিকল্পনা অনুসারে, তৃতীয় টার্মিনাল থেকে পরিচালিত এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রী-সংক্রান্ত গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার জন্য বিমান অথবা নতুন নিয়োগকৃত অপারেটরের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে পারবে। এ সিদ্ধান্তকে দেশের এভিয়েশন খাতে প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং সেবার মান উন্নয়নের বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছেন, জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। জাপানি কনসোর্টিয়াম (জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো, নিপ্পন কোয়েই ও নারিতা এয়ারপোর্ট কর্পোরেশন) সম্ভাব্য দ্বিতীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলারদের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করবে। এরপর বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ যোগ্যতা, নিরাপত্তা ও পরিচালন দক্ষতা যাচাই করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।

ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যের মেঞ্জিস অ্যাভিয়েশন, তুরস্কের চেলেবি অ্যাভিয়েশন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডনাটা এবং সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্টসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বেশ কয়েকটি কোম্পানি এ ব্যবসায় আগ্রহ দেখিয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশের রাষ্ট্রদূতরা কূটনৈতিক তৎপরতাও চালিয়েছেন।

বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবসা বছরে ১,০০০ থেকে ১,২০০ কোটি টাকার আয়ের উৎস। তবে সেবার মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর অভিযোগ ছিল। নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে যাত্রীসেবার প্রতিযোগিতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বছরে আরও ১.২ থেকে ১.৬ কোটি যাত্রী ও অতিরিক্ত কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা যোগ হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সেবার মান উন্নত হলে যাত্রী ও এয়ারলাইন্স উভয়ই উপকৃত হবে। জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিবেচনায় রেখে যোগ্যতার ভিত্তিতে অপারেটর নির্বাচনের ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

আগামী জুলাইয়ের মধ্যে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি এবং ২০২৬ শেষ বা ২০২৭ সালের শুরুতে তৃতীয় টার্মিনাল চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় এক নতুন যুগের সূচনা করতে পারে।

Read Previous

বরিশালের ঐতিহ্যের প্রতীক: দেড় শতকের ‘চান বাংলো’ এখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে

Read Next

নড়াইলে চালু হচ্ছে দেশের প্রথম ‘অরুণিমা ফ্লোটিং ড্রাইভিং রেঞ্জ’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular