বিমানের ফাইল আটকে রাখার অভিযোগে আইন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

ফাইল ছবি

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক রাশেদ মেহের চৌধুরী এখন নিজেই আইনের জালে। দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ নথি আটকে রাখার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুটি বিভাগীয় মামলা চলছে।

বর্তমানে তিনি বিমানের মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিভাগে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে কর্মরত। তদন্ত কমিটির নথি অনুযায়ী, তিনি দুই থেকে চার বছর পর্যন্ত অন্তত নয়টি নথি আটকে রেখেছিলেন। এর ফলে কর্মচারীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, আবার প্রতিষ্ঠানেরও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

কোন কোন নথি আটকে ছিল

অভিযোগে বলা হয়,

  • ২০১৯ সালের একটি হাইকোর্টের আদেশ চার বছর সাত মাস আটকে রাখেন, যেখানে দুই কর্মচারীকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ ছিল।
  • একই বছরে পেনশনের টাকা ফেরত পাওয়ার আবেদনও চার বছর সাত মাস ধরে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই পড়ে ছিল।
  • এক কর্মচারীর মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণের নথি আটকে থাকে চার বছর ছয় মাস।
  • মানবিক কারণে পুনর্বহালের আবেদনও তিনি চার বছর তিন মাস আটকে রাখেন।
  • ২০২১ সালে পাঁচজন বৈমানিকের বেতন বৈষম্য দূরীকরণের আবেদন দুই বছর আটকে ছিল।
  • জেদ্দাগামী বিমানের এক ফ্লাইটে জীবাণুনাশক স্প্রে না করায় আর্থিক ক্ষতিপূরণ আদায়ের নথি তিন বছর আটকে থাকায় ৫৮ হাজার ৭৫০ সৌদি রিয়াল ক্ষতি হয়।

এসব কার্যক্রমকে বিমানের সার্ভিস রেগুলেশন ১৯৭৯ এবং কর্মচারী প্রবিধানমালার সরাসরি লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

রাজনৈতিক যোগসাজশের অভিযোগ

বিমানের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই রাশেদ মেহের চৌধুরী চাকরিতে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটান এবং ধীরে ধীরে সব বিভাগে আধিপত্য বিস্তার করেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ পতনের পরই তার দাপট শেষ হয়। ওইদিন থেকেই তাকে প্রধান কার্যালয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

নতুন মামলার বিস্তারিত

২০২৫ সালের ১৭ জুন তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা অনুমোদন করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাফিকুর রহমান। অভিযোগ হলো, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে একটি চার্জশিট ও অভিযোগপত্র ভেটিং না করায় সাবেক এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি, ফলে তিনি নিরাপদে অবসর নিয়েছেন।

রাশেদের বক্তব্য

নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে রাশেদ মেহের চৌধুরী বলেন, তিনি যথাসময়ে সব ফাইল জমা দিয়েছেন এবং তদন্ত কমিটির কাছে তথ্যপ্রমাণও দিয়েছেন। এখন তদন্ত কমিটিই বিষয়টি যাচাই করবে।

তদন্তের অগ্রগতি

তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে আছেন বিমানের এয়ারপোর্ট সার্ভিসের মহাব্যবস্থাপক মনিরুল ইসলাম। তবে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম জানান, গত ১৯ আগস্ট থেকে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ করতে কমপক্ষে ৬০ কর্মদিবস সময় লাগবে, প্রয়োজনে আরও সময় বাড়ানো হতে পারে।

বিমানের ভেতরে দীর্ঘদিনের জমে থাকা এই ফাইল কেলেঙ্কারি শেষ পর্যন্ত রাশেদ মেহের চৌধুরীর চাকরির ভবিষ্যৎ কোন দিকে নিয়ে যাবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Read Previous

জাতিসংঘ অধিবেশন শেষে দেশে ফিরলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

Read Next

রাঙামাটিতে ঝড়ো হাওয়ায় নৌকাডুবি: সেনাবাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে উদ্ধার অভিযান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular