বিমানবন্দর কার্গোতে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি: দুর্নীতি ও হয়রানি মুক্ত করার অঙ্গীকার করলেন বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (এইচএসআইএ) কার্গো কার্যক্রমকে সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্ত করতে কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি প্রয়োগের দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন। নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে বিমানবন্দরের সেবা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও ব্যবসায়ীবান্ধব করে তোলার লক্ষ্যে এই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

রবিবার (৫ এপ্রিল ২০২৬) বিমানবন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রমের আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। পরিদর্শনকালে তিনি কার্গো টার্মিনালের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং পণ্য ছাড়করণ প্রক্রিয়া সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনিবলেন, “নতুন সরকারের অধীনে পণ্য পরিবহন কার্যক্রমকে হয়রানি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করা হবে। যেকোনো ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। শূন্য সহনশীলতা নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে।”

মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, আমদানি-রপ্তানিকারকদের জন্য বিমানবন্দরের কার্গো সেবা যেন দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্ন হয়, সেজন্য যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পণ্য ছাড়করণ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, কোনো ধরনের বিলম্ব বা অযাচিত হয়রানি যেন না ঘটেসেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে। এই নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও অর্থনীতিকে গতিশীল করার প্রত্যাশা প্রকাশ করেন তিনি।

পরিদর্শনের অংশ হিসেবে মন্ত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের হ্যাঙ্গার কমপ্লেক্সও পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ফ্লাইট বিজি ২০২-এর কারিগরি অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেন। কেন্দ্রীয় হাইড্রোলিক সিস্টেমের আইসোলেটরে পূর্ববর্তী ত্রুটির কারণে এই মডেলের কয়েকটি বিমান সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রাউন্ডেড ছিল। বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে।

মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, বিমানটির হাইড্রোলিক সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণ দ্রুত সম্পন্ন করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটিকে উড্ডয়নযোগ্য করে তোলার জন্য। তিনি বিমানের কেবিন ও ককপিটও সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও প্যানেলের কার্যকারিতা খতিয়ে দেখেন। নিরাপত্তা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এ সময় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকীসহ সিএএবি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই পরিদর্শন ও ঘোষণা নতুন সরকারের অধীনে বিমান ও পর্যটন খাতে সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্গোকার্যক্রমে দুর্নীতি ও হয়রানি দীর্ঘদিন ধরে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি বাস্তবায়িত হলে ব্যবসায়ীদের আস্থা বাড়বে এবং দেশের লজিস্টিকস খাত আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।

একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরের রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পর্যটন ও যাত্রী পরিবহন খাতের জন্য অত্যন্ত জরুরি।বোয়িং ৭৮৭-৯ এর মতো আধুনিক বিমানগুলোর দ্রুত সচল করা দেশীয় এয়ারলাইন্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং আন্তর্জাতিক রুটে প্রতিযোগিতায় সহায়তা করবে।

মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এর আগেও বিমানবন্দরে যাত্রী ও প্রবাসীদের সেবার মান উন্নয়ন, লাগেজ চুরি রোধ এবং সামগ্রিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একাধিক নির্দেশনা দিয়েছেন। তার এই সক্রিয় ভূমিকা নতুন সরকারের ‘জনবান্ধব’ ও ‘দুর্নীতিমুক্ত’ প্রশাসন গঠনের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

পর্যটন ও বিমান খাতের উন্নয়ন বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত। কার্গো সেবায় হয়রানিমুক্ত পরিবেশ এবং বিমানের নিরাপদ ও দক্ষ পরিচালনার মাধ্যমেদেশের রপ্তানি বৃদ্ধি, পর্যটক আগমন এবং প্রবাসীদের সুবিধা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা যায়। মন্ত্রীর এই অঙ্গীকার যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে বিমানবন্দরগুলোতে একটি নতুন ইতিহাস রচিত হতে পারে।

Read Previous

সুইডিশ দূতাবাসের পোল্যান্ড ভিসা মধ্যস্থতা প্রত্যাহার: বাংলাদেশী পর্যটক ও আবেদনকারীদের জন্য নতুন দ্বার উন্মোচনের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ

Read Next

পাহাড়ে বৈসাবি উৎসবের প্রস্তুতি তুঙ্গে: কোমর তাঁতে ব্যস্ত পাহাড়ি নারীরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular