পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের শহর বাল্টিমোরে সেনা পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে স্থানীয় গভর্নর ওয়েস মুরের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্যে এসেছে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেরিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট গভর্নর ওয়েস মুর সম্প্রতি ট্রাম্পকে শহরে একটি ‘সেফটি ওয়াক’-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে উল্টো সতর্ক করে লিখেছেন— প্রয়োজনে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস ও ওয়াশিংটন ডিসির মতো বাল্টিমোরেও ন্যাশনাল গার্ড পাঠাবেন, দ্রুত অপরাধ দমন করবেন।
ডেমোক্র্যাট নেতারা ট্রাম্পের এই কৌশলকে ক্ষমতার অপব্যবহার বলে সমালোচনা করেছেন। গভর্নর মুরের ভাষায়, ট্রাম্পের মন্তব্য “অজ্ঞতাপূর্ণ ও বেখাপ্পা”। তিনি বলেন, “তারা আমাদের রাস্তায় হাঁটেনি, আমাদের সমাজে আসেনি, তাই বারবার ভুল ধারণা ছড়াচ্ছে।”
ওদিকে, ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, গভর্নরের চিঠি ছিল “অভদ্র ও উসকানিমূলক”। তিনি জানান, অপরাধ দমন না করা পর্যন্ত তিনি বাল্টিমোরে যেতে রাজি নন।
এদিকে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ইতোমধ্যেই প্রায় ২ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউস দাবি করছে, এ পদক্ষেপে শহরে নিরাপত্তা ফিরেছে এবং শত শত অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে। যদিও স্থানীয় পুলিশ পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে অপরাধ গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম পর্যায়ে নেমে এসেছে এবং ২০২৫ সালের শুরুতেও অপরাধ আরও কমছে।
ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি নিউইয়র্ক ও শিকাগোতেও সেনা পাঠাতে পারেন। কিন্তু ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিটজকারসহ ডেমোক্র্যাট নেতারা এর তীব্র বিরোধিতা করছেন। হাউস মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফ্রিজ স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রেসিডেন্টের বাল্টিমোর বা শিকাগোতে সেনা পাঠানোর কোনও আইনগত ক্ষমতা নেই।
জরিপেও দেখা যাচ্ছে, বাল্টিমোরবাসীর বড় অংশ (প্রায় ৮০ শতাংশ) ফেডারেল সেনা মোতায়েনের বিপক্ষে। তারা মনে করেন, অপরাধ কমে আসলেও ট্রাম্প রাজনৈতিক সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন।



