
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: আফ্রিকার পাহাড়ি রাজ্য লেসোথো ভ্রমণের স্বপ্ন দেখছেন? তাহলে সবার আগে জানতে হবে ভিসা সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য লেসোথোতে প্রবেশ করতে অগ্রিম ভিসা নেওয়া বাধ্যতামূলক। ঢাকায় লেসোথোর কোনো দূতাবাস নেই, তাই আবেদন করতে হয় অনলাইনে বা নিকটস্থ মিশনের মাধ্যমে। নিচে ধাপে ধাপে পুরো বিষয়টি তুলে ধরা হলো।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
লেসোথো ভিসার জন্য সাধারণত যে নথিগুলো জমা দিতে হয়:
- বৈধ পাসপোর্ট (মেয়াদ অন্তত ৬ মাস থাকতে হবে)
- পূর্ণাঙ্গ ভিসা আবেদন ফরম
- সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- যাওয়া-আসার টিকিট এবং হোটেল বুকিংয়ের প্রমাণ
- আর্থিক সক্ষমতার কাগজপত্র (ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বেতন স্লিপ ইত্যাদি)
- প্রয়োজনে আমন্ত্রণপত্র (যদি আত্মীয় বা ব্যবসায়িক যোগাযোগ থাকে)
- ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট (যেমন ইয়েলো ফিভার, প্রয়োজন হলে)
- শিশুদের ক্ষেত্রে জন্মসনদ ও পিতামাতার সম্মতিপত্র
নোট: সব নথি ইংরেজিতে জমা দিতে হবে। অন্য ভাষার হলে ইংরেজি অনুবাদ সংযুক্ত করতে হবে।
ভিসা ফি
লেসোথো ভিসার ফি ডলারে পরিশোধ করতে হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী—
- একবার প্রবেশযোগ্য (Single Entry) ভিসা: প্রায় ১৫০ মার্কিন ডলার
- একাধিকবার প্রবেশযোগ্য (Multiple Entry) ভিসা: প্রায় ২৫০ মার্কিন ডলার
ফি পরিবর্তনশীল হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা সংশ্লিষ্ট মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
কোথায় আবেদন করবেন
বাংলাদেশে লেসোথোর কোনো দূতাবাস নেই। তাই আবেদনকারীদের জন্য দুটি প্রধান বিকল্প রয়েছে:
- লন্ডন হাইকমিশন: 7 Chesham Place, Belgravia, London SW1X 8HN
- প্রিটোরিয়া হাইকমিশন (দক্ষিণ আফ্রিকা): বাংলাদেশিদের জন্য কার্যত নিকটতম কেন্দ্র
এ ছাড়া লেসোথো সরকারের e-Visa পোর্টাল ব্যবহার করা যায়। তবে কখনো কখনো এই সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। সে ক্ষেত্রে সরাসরি ইমেইল (VISA-Applications.Immigration@gov.ls) করে নির্দেশনা নিতে হয়।
আবেদন প্রক্রিয়া
১. অনলাইনে বা কনস্যুলারের ওয়েবসাইট থেকে আবেদন ফরম পূরণ করুন
২. সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান/ফটোকপি প্রস্তুত করুন
৩. ভিসা ফি পরিশোধ করুন
৪. কনস্যুলারে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে সরাসরি বা ডাকযোগে নথি জমা দিন
৫. প্রসেসিং সময় সাধারণত কয়েক সপ্তাহ; তাই ভ্রমণের অন্তত ১–২ মাস আগে আবেদন করা উত্তম
ভ্রমণকারীদের জন্য টিপস
- লেসোথো ভ্রমণের সবচেয়ে প্রচলিত রুট হলো দক্ষিণ আফ্রিকার মাধ্যমে। তাই দক্ষিণ আফ্রিকার ভিসা বা ট্রানজিট নিয়মও আগে যাচাই করে নিতে হবে।
- আবেদন প্রক্রিয়া প্রায়ই পরিবর্তিত হয়। তাই ভ্রমণের আগে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা নিকটস্থ মিশন থেকে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়া জরুরি।
- নথি অসম্পূর্ণ হলে আবেদন বাতিল হতে পারে। তাই প্রতিটি কাগজপত্র ভালোভাবে যাচাই করে জমা দিন।
বাংলাদেশ থেকে লেসোথো ভ্রমণ সহজ নয়, কারণ ঢাকায় কোনো দূতাবাস নেই। তবে সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত করে এবং আগেভাগে আবেদন করলে ভিসা পাওয়া সম্ভব। আফ্রিকার অনন্য পাহাড়ি দেশ লেসোথো ভ্রমণের জন্য তাই যাত্রা শুরু হোক ভিসা প্রক্রিয়া থেকেই।



