বঙ্গোপসাগরে নতুন লঘুচাপ, বৃষ্টি বাড়ার আভাস দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে

ফাইল ছবি

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়েছে নতুন একটি লঘুচাপ, যা উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের উপকূলের দিকে এগোচ্ছে। এই লঘুচাপের প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে—বিশেষ করে চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই লঘুচাপের কারণে সাগর উত্তাল থাকতে পারে এবং পরবর্তী কয়েক দিন দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বেড়ে যাবে।

লঘুচাপের বর্তমান অবস্থা

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বার্তা অনুযায়ী, রোববার (২ নভেম্বর) বিকেল নাগাদ বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে লঘুচাপটি সৃষ্টি হয়। এটি ধীরে ধীরে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা মিয়ানমার উপকূল ঘেঁষে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় অংশে প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এই লঘুচাপটি এখনো ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা নেই, তবুও এর ফলে স্থানীয়ভাবে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বঙ্গোপসাগরে বাতাসের গতিবেগ কিছুটা বেড়েছে। মৎস্য ও নৌযানগুলোর প্রতি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

পরবর্তী পাঁচ দিনের পূর্বাভাস

আবহাওয়া অধিদপ্তর রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু করে আগামী পাঁচ দিনের (১২০ ঘণ্টা) পূর্বাভাসে জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং বরিশাল ও সিলেট বিভাগের দু-এক স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে, তবে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্কই থাকবে।

রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। সোমবার (৩ নভেম্বর) থেকে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। এই সময়েও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগের বেশ কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এদিন দেশের দক্ষিণাঞ্চলে মেঘের ঘনত্ব আরও বাড়বে বলে ধারণা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

পরবর্তী দিন অর্থাৎ বুধবার (৫ নভেম্বর) একই ধরনের আবহাওয়া বজায় থাকবে। তখনও দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে আসবে। চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে, কিন্তু দেশের অন্যান্য অংশে আকাশ পরিষ্কার থাকতে পারে।

তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার সামগ্রিক চিত্র

বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারাদেশে তাপমাত্রা কিছুটা কমে যেতে পারে। রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে নামতে শুরু করবে, বিশেষ করে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে হালকা শীতের অনুভূতি পাওয়া যেতে পারে।

দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিললেও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকবে, যা শরীরে আর্দ্র গরমের অনুভূতি দিতে পারে। তবে বৃষ্টি কমে গেলে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শীতের আমেজ স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কৃষি ও উপকূল অঞ্চলের জন্য প্রভাব

বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি আনলেও উপকূলীয় এলাকার কৃষকরা সতর্ক অবস্থায় আছেন। ধান কাটার মৌসুমে অতিবৃষ্টি হলে ফসল ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের মাঠে থাকা আমন ধান যদি দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকে, তাহলে ফলন কমে যেতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এখনকার লঘুচাপ মৌসুমি পরিবর্তনের অংশ। অক্টোবর-নভেম্বর মাসে এমন লঘুচাপ বঙ্গোপসাগরে প্রায়ই তৈরি হয়, যা কখনও বৃষ্টিসহ নিম্নচাপ আকারে উপকূলে আঘাত হানে। এই বৃষ্টি যদিও স্বল্পস্থায়ী, তবে এটি কৃষিজমিতে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।

সমুদ্র ও উপকূলের জন্য সতর্কতা

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হতে পারে যদি লঘুচাপ আরও ঘনীভূত হয়। মাছ ধরার ট্রলার ও ছোট নৌযানগুলোকে গভীর সমুদ্রে না যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সাগরের ঢেউ স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি, তাই উপকূলের নীচু এলাকাগুলোতে সাময়িক জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা থাকছে।

সব মিলিয়ে, বঙ্গোপসাগরের এই নতুন লঘুচাপ এখনই বিপদজনক নয়, তবে এটি দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টি বাড়াবে। অন্যদিকে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল ধীরে ধীরে শুষ্ক, ঠান্ডা এবং পরিষ্কার আবহাওয়ার দিকে যাচ্ছে—যা নভেম্বরের প্রথম দিকের সাধারণ চিত্রের সঙ্গেই মিলে যায়।

Read Previous

জাতীয় নির্বাচনের পরই বিশ্ব ইজতেমা: দুই পক্ষকে এক মঞ্চে আনতে সরকারের উদ্যোগ

Read Next

সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে রাঙ্গামাটিতে জেলা পুলিশের ফুটবল উৎসব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular