পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) সহযোগিতা করার দায়ে ফিলিস্তিনের তিনটি মানবাধিকার সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আল হক, আল মেজান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস এবং প্যালেস্টাইনিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস (পিসিএইচআর)-কে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। তার দাবি, আইসিসি ইসরায়েলি নাগরিকদের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে, আর এই সংগঠনগুলো সরাসরি তাতে জড়িত।
গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরই এ পদক্ষেপ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়া ঠেকাতে তাদের ভিসাও বাতিল করা হয়।
ইসরায়েল এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সা’আর বলেন, এই সংগঠনগুলো আইসিসিকে ব্যবহার করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচারণা চালিয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি দাননও একে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেন।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সিদ্ধান্তটির কঠোর সমালোচনা করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি পরিচালক এরিকা গুয়েভারা-রোসাস একে মানবাধিকার ও বৈশ্বিক বিচারের ওপর “লজ্জাজনক আঘাত” বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এ পদক্ষেপ ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ কেড়ে নিচ্ছে এবং মানবাধিকার আন্দোলনকে দুর্বল করছে।
এদিকে ফ্রান্স, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও বেলজিয়াম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের স্বীকৃতি ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।



