
বান্দরবান থেকে প্রতিবেদক:মুহাম্মদ শফিকুল আশরাফ
মিলাদুন্নবী সহ দুই দিনের ছুটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বান্দরবানের পাহাড় ও ঝর্ণা প্রান্তে পর্যটকের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। প্রচন্ড গরম থেকে মুক্তি পেতে মানুষ ছুটে আসছেন পাহাড়ের ঠান্ডা হাওয়া ও ঝর্ণার শীতল জলে। বিশেষ করে নাফাখুম, সৎকুম, জুম্বার ও ফাঁসন ঝর্ণায় পর্যটকের আগমন বেশি দেখা গেছে। বান্দরবানের হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট প্রায় পুরোপুরি পর্যটকে পরিপূর্ণ।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক সোহেল মিয়া বলেন, “গরমে শহরে থাকা সত্যিই কষ্টকর। মাত্র দুই দিনের ছুটি হলেও নাফাখুম এবং সৎকুম ঝর্ণার শীতলতা উপভোগ করতে পেরে খুব ভালো লাগছে।” আরেক পর্যটক রুমি আক্তার বলেন, “জুম্বার ঝর্ণার কাছে এসে ক্লান্তি সব দূর হয়ে যায়। হোটেলগুলোতে ভিড় থাকলেও প্রকৃতির সৌন্দর্য মুগ্ধকর।”
স্থানীয় উপজাতির সদস্যরা পর্যটক ভিড় নিয়ে মত দিয়েছেন। চন্দন চাকমা বলেন, “পর্যটকরা আসায় আমাদের জীবিকা বাড়ছে, তবে প্লাস্টিক ও আবর্জনার চাপও বেড়েছে। গরমের দিনে ভিড় আরও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। আমরা চাই পর্যটন সচেতনভাবে হোক।” লীলা মারমা বলেন, “দুই দিনের ছুটিতেই এত ভিড় আগে দেখা যায়নি। নাফাখুম ও ফাঁসন ঝর্ণার আশেপাশে বিশেষ চাপ দেখা যাচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য সমস্যা হতে পারে।”
ব্যবসায়ীরা বলছেন, গরম ও ভিড়ের মধ্যেও পর্যটকরা লাভদায়ক। রিসোর্ট মালিক রাজু কর্ণেল বলেন, “পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে ব্যবসা ভালো হয়েছে। গরমের কারণে শীতল ঝর্ণায় মানুষের আগমন বেশি।” মিনা দাশ বলেন, “ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। তবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ।”
স্থানীয় পুলিশও পর্যটক ভিড় নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, “পাহাড়ি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছি। যানজট ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে নজর রাখা হচ্ছে। গরমের দিনে যেকোনো দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে, তাই সতর্কতা জরুরি।”
পর্যটন সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মিলাদুন্নবী সহ দুই দিনের ছুটিতেও পর্যটকরা নাফাখুম, সৎকুম, জুম্বার ও ফাঁসন ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসায় সাময়িকভাবে চাপ বেড়েছে। তবুও স্থানীয়রা একমত, প্রচন্ড গরমের মধ্যেও এই ভিড় বান্দরবানকে দেশের পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।



