
রাঙামাটি প্রতিনিধি। পর্যটন সংবাদ: পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র গোষ্ঠী ইউপিডিএফ-এর সহিংস কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আজ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) ও যুব পরিষদ এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ইউপিডিএফ ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগকে কেন্দ্র করে পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উসকে দিতে সশস্ত্র হামলা, দোকানপাট লুটপাট ও মসজিদে অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে। তারা বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার ইন্ধন রয়েছে, যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।
পাঁচ দফা দাবি
প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে সরকারকে উদ্দেশ্য করে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়:
১. ইউপিডিএফসহ সব বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন নিষিদ্ধ করা।
২. প্রত্যাহারকৃত সেনা ক্যাম্প পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৩. সাধারণ মানুষের ওপর হামলা ও মসজিদে অগ্নিসংযোগের দায়ীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি।
৪. পাহাড়ের সকল মানুষের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা।
৫. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কঠোর নজরদারি ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ।
বক্তাদের বক্তব্য
পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান বলেন, “বিদেশি শক্তির মদদে পরিচালিত এই সন্ত্রাসীরা যতই চক্রান্ত করুক, জনগণের ঐক্য ও রাষ্ট্রের কঠোর পদক্ষেপের কাছে তাদের পরাজয় অনিবার্য।”
ছাত্র পরিষদের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েস জানান, পাহাড়ের প্রকৃত সমস্যা উন্নয়ন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান; অথচ ইউপিডিএফ এসব ইস্যু আড়াল করতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
যুব পরিষদের সভাপতি এডভোকেট নূর হোসেন অভিযোগ করেন, ইউপিডিএফ সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি করে পাহাড়ি-বাঙালি দাঙ্গা উসকে দিতে চাইছে, যা কখনোই সফল হবে না।
শান্তির বার্তা
নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পাহাড়ের শান্তিপ্রিয় মানুষ আর নিরাপদ থাকবে না। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন—সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি হয়ে থাকা নয়, বরং জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনই শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ।



