পাহাড়ি-বাঙালিদের পার্বত্য মেলা চলছে

দেশের মোট ভূখণ্ডের এক দশমাংশ অঞ্চলজুড়ে আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের পরিবর্তনের চাকা ঘূর্ণনের মাতোয়ারায় উদ্যমী পাহাড়ি তরুণ জনতা। সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে পাহাড়ি-বাঙালি সুসম্পর্ক বজায় রেখে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করে চলছে। জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বের অগ্রভাগে ছিল তরুণ জনতা। বাংলাদেশের তরুণরা জেগেছিল, জেগে আছে এবং আবহমানকাল জেগে থাকবে। টগবগে এই তরুণ জনতা তারুণ্যের উৎসবে স্বাধীনতার সূর্যকে কখনও ম্লান হতে দেবে না, এ বিশ্বাস সবার। তারুণ্যের এ উৎসবে শামিল আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনপদ।

‘এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই’—সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এখন সবাই সরব। টগবগে পাহাড়ি তরুণ যুবক ও জনতা তারুণ্যের উৎসবে দেশের উন্নয়ন ও পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় মিশে একাকার হওয়ার প্রয়াস চালাচ্ছে। পাহাড়ি তরুণরা শুধু জুম চাষ আর পূজা-পার্বন উৎসবেই সীমাবদ্ধ নয়, সম্প্রীতির বন্ধনে পার্বত্য অঞ্চলের সৌন্দর্যবর্ধন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও রাজধানীর পার্বত্য মেলার বিস্তারকে ছড়িয়ে দিতে যুক্ত হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের তারুণ্যের উৎসব পাহাড়ি জনপদের একটুকরো অংশকে উপহার দিতে গতকাল ২৯ জানুয়ারি শুরু হয়েছে পার্বত্য মেলা। যা ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে চলবে।

উল্লেখ্য, আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় মেলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা রাত ১০টা পর্যন্ত কার্যক্রম চলবে। পাহাড়ি পণ্যসহ ৮০টির মতো স্টল রয়েছে এবারের মেলায়। উৎসবমুখর পরিবেশে পার্বত্য মেলা ও তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ উদ্যাপিত হচ্ছে। পাহাড়ি-বাঙালির মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে মেলা। আপ্যায়নে পাহাড়ি খাবার মেন্যুতে রয়েছে বৈচিত্র্য। এছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে।

বাংলাদেশের খাদ্য সংস্কৃতি বৈচিত্র্যময়। ভৌগোলিক গঠন এবং বিভিন্ন অঞ্চলের খাদ্য সংস্কৃতি আমাদের খাদ্যাভ্যাসকে করেছে সমৃদ্ধ। এর মধ্যে পার্বত্য অঞ্চলের খাবার এক ব্যতিক্রমী খাদ্যভাণ্ডার হিসেবে স্থান দখল করে আছে। পার্বত্য অঞ্চলের খাবারে প্রকৃতির সান্নিধ্য ও সহজলভ্য বিভিন্ন খাদ্যের উপাদান পাহাড়ি খাদ্যভাণ্ডারকে সৃজনশীল করেছে। পাহাড়ি প্রকৃতি, আবহাওয়া, পাহাড়, পর্বত, নদী-ঝরনা, লতাপাতার গুল্ম, শাকসবজি, ফল-ফলাদি, সবুজ বৃক্ষের সজীবতা এবং স্থানীয় ঐতিহ্যের মিশ্রণ এ অঞ্চলকে সমতল থেকে করেছে আলাদা।

পার্বত্য এলাকার মানুষজন মাছ, মাংস, শাকসবজি, ফলমূল, শুঁটকি ও বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক উপাদান ও মশলা দিয়ে পুষ্টিকর, স্বাস্থ্যসম্মত ও স্বাদে অতুলনীয় রসনা বিলাসপূর্ণ খাবার তৈরি করে থাকে। এই খাদ্যসম্ভার আমাদের মুগ্ধ করে এবং স্বাদের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

এবারের পার্বত্য মেলায় খাবার মেন্যুতে রয়েছে জনপ্রিয় পাহাড়ি শাকসবজি, প্রাকৃতিক উপাদান, মশলা, মাছ, মাংস ও কচি বাঁশ। সেদ্ধ কচি বাঁশ, বাঁশের ডাল, বাঁশ দিয়ে ছোটো মাছ রান্না ও সবজির মিশ্রণে বাঁশ খাদ্যমেলায় রসনা বিলাসিতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের জন্য বাম্বু চিকেন একটি জনপ্রিয় খাবার। এটি মূলত আস্ত টুকরো করা বাঁশের মধ্যে মুরগির মাংস, হলুদ, কাঁচা মরিচ, আদা, রসুন, ধনেপাতা, লবণ ও অন্যান্য মশলার মিশ্রণ দিয়ে তৈরি করা হয়। পাহাড়ি চিকেন মশলার সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে বাঁশের মধ্যে ভরে অল্প আঁচে রান্না করা মাংসে চুলোর ধোঁয়া এবং কাঠের গন্ধের মিশ্রণ মেলায় ক্রেতাদের রসনার স্বাদকে বাড়িয়ে দেবে। উনুনের ওপর থাকা অবস্থায় বাঁশের খোলস ফেটে গেলে সুস্বাদু মাংস বাঁশকোড়ল যে পুরোপুরি প্রস্তুত তা বোঝা যাবে।

Read Previous

চা বাগানের ভেতরে লেক, সৌন্দর্যে মুগ্ধ পর্যটকরা

Read Next

দেবতাখুম পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় ব্যবসায় ভাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular