
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: স্বাধীনতার পর থেকে দেশে সাক্ষরতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রতিবেদন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২৪ অনুযায়ী, বর্তমানে সাত বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাক্ষরতার হার দাঁড়িয়েছে ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ এখনো ২২ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ নিরক্ষর রয়ে গেছে।
২০১০ সালে সাক্ষরতার হার ছিল ৫৯ দশমিক ৮২ শতাংশ। দেড় দশকে বৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। তবে এক বছরের ব্যবধানে নতুন করে ৪ হাজার বেসরকারি প্রাইমারি বিদ্যালয় ও ২ লাখ শিক্ষার্থী যুক্ত হলেও ঝরে পড়ার হার বেড়েছে ৩ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার হিসাবের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা অনুযায়ী সাক্ষরতা নিরূপণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে। ফলে শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনের পথ কঠিন হয়ে উঠছে।
আজ শনিবার বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৫। ইউনেসকো ঘোষিত এ বছরের প্রতিপাদ্য “প্রযুক্তির যুগে সাক্ষরতার প্রসার”।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে বলেন, “সাক্ষরতা শুধু পড়ালেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ডিজিটাল জ্ঞান, তথ্য ব্যবহারের দক্ষতা, অনলাইনে শেখা ও সমস্যার সমাধান করার ক্ষমতাও এখন কার্যকর সাক্ষরতার অংশ।” তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে যারা পিছিয়ে পড়ছে, তারা শিক্ষাবঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতি ও সমাজের মূলধারা থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।
দেশের প্রায় ৪ কোটি মানুষ এখনো বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার। মোট জনসংখ্যার ২৪ দশমিক ০৫ শতাংশ এই দারিদ্র্যসীমার ভেতরে রয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে এই হার সবচেয়ে বেশি—৬৫ দশমিক ৩ শতাংশ।
সরকার ২০০৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে ২০১৪ সালের মধ্যে নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে এক দশক কেটে গেলেও লক্ষ্য পূরণ হয়নি। এখন প্রশ্ন উঠছে, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন সম্ভব হবে কি না।



