
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : দীর্ঘ দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের অবসানের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে। এই ঐতিহাসিক অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে জাতীয় সংসদ হবে দেশের সব যুক্তি-তর্ক, আলোচনা ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের প্রধান কেন্দ্রস্থল।
অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদীয় বিধি অনুসারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সভাপতি (অস্থায়ী স্পিকার) হিসেবে প্রস্তাব করেন, যা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
বক্তৃতার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পর্যন্ত সব শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্যাতন, গুম-খুন ও বর্বরতার শিকার অসংখ্য মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে আজ একটি দায়বদ্ধ ও প্রকৃত গণতান্ত্রিক সংসদ গড়ে উঠেছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রদূত হিসেবে স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, তিনি সংসদকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন, কিন্তু বিগত শাসনামলে তা প্রহসনে পরিণত হয়েছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উক্তি উদ্ধৃত করে তিনি জোর দেন যে, জনগণই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল এবং বিএনপির দর্শন জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চে স্থান দেয়।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, দলীয়ভাবে নির্বাচিত হলেও তিনি সারা দেশের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সার্বভৌম, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তিনি প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করে সমৃদ্ধ দেশ গড়ার আহ্বান জানান এবং সব সংসদ সদস্যের সহযোগিতা কামনা করেন।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে সাবেক স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারদের কেউ উপস্থিত না থাকায় এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি ১৯৭৩ সালের নজির টেনে বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানও অনুরূপ পরিস্থিতিতে প্রবীণ সদস্যের নাম প্রস্তাব করেছিলেন।
এই অধিবেশনকে জনগণের প্রত্যাশার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, এই সংসদ গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে।



