
কোলাজ: পর্যটন সংবাদ
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট আগামী ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করতে যাচ্ছে। এই উৎসবের মাধ্যমে হোটেলটি বাঙালি ঐতিহ্যকে আধুনিক আতিথেয়তার সঙ্গে মিলিয়ে অতিথিদের জন্য এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলমান এই অনুষ্ঠানে থাকবে লোকনৃত্য, সংগীত, শিশুদের নানা কার্যক্রম, ঐতিহ্যবাহী খাবারের বুফে এবং উৎসবমুখর স্টলের সমাহার।
মঙ্গলবার হোটেল কর্তৃপক্ষ এই ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছে,পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ঢাকা রিজেন্সি তার অতিথিদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক মেলার আয়োজন করছে। উৎসবটি শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং বাংলা সংস্কৃতির মূল্যবোধ, ঐতিহ্য এবং সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে উদযাপিত হবে। হোটেলের সুসজ্জিত প্রাঙ্গণকে বৈশাখী রঙে সাজিয়ে তোলা হবে, যেখানে লাল-সাদা-হলুদের সমন্বয়ে বাঙালি উৎসবের প্রাণোচ্ছল আবহ তৈরি করা হবে।
উৎসবের সূচনা হবে সকালবেলায় শিশুদের জন্য একটি বিশেষ বৈশাখী চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। এতে শিশুরা ক্যানভাসে তাদের কল্পনাকে রূপ দিয়ে বৈশাখের ছবি আঁকবে। দিনভর শিশুদের জন্য থাকবে নানা আকর্ষণীয় কার্যক্রম—মুখে রং দিয়ে ছবি আঁকা, ইন্টারেক্টিভ আর্ট জোন, পুরনো দিনের বায়োস্কোপ, বেলুন ওড়ানো এবং জোকার চরিত্রের মজার উপস্থিতি। এছাড়া মেহেদি উৎসব ও ফুচকার স্টল শিশু ও যুবকদের আনন্দে মাতিয়ে রাখবে। এসব আয়োজন শিশুদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক চেতনা জাগ্রত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রাপ্তবয়স্ক অতিথিদের জন্য উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হবে ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীতের পরিবেশনা। বাউল গান, বাঁশির সুর এবং পুঁথি পাঠের মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতির মূল সুরটি অনুরণিত হবে। এই সরাসরি পরিবেশনা বাঙালির আত্মপরিচয় ও ঐতিহ্যের গভীরতা তুলে ধরবে। পাশাপাশি দিনভর চলবে মেহেদি শিল্পের স্টল, চুড়ির কর্নার এবং উৎসবমুখর ফটো বুথ। অতিথিরা এখানে বৈশাখী সাজে সেজে স্মৃতিময় মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে পারবেন।
উৎসবের খাদ্যাংশটি হবে একেবারে বাঙালি স্বাদের উৎসব। দুপুরে পরিবেশিত হবে বিশেষ বৈশাখী লাঞ্চ বুফে, যার মূল্য জনপ্রতি ৫,৫৫৫ টাকা। এতে থাকবে পান্তা-ইলিশের মতো ঐতিহ্যবাহী পদ, শুঁটকি ভুনা, সর্ষে বাটা বেগুন, চিংড়ি মালাই কারি, নানা ধরনের মিষ্টি এবং দেশি-বিদেশি খাবারের সমন্বয়। সন্ধ্যায় একই মূল্যে সান্ধ্যকালীন বাঙালিয়ানা বুফে ডিনার পাওয়া যাবে। চারজনের গ্রুপ প্যাকেজের জন্য বিশেষ ছাড়ে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১১,১১১ টাকা। এছাড়া নির্বাচিত কার্ডধারী, ঢাকা রিজেন্সি প্রিমিয়ার ক্লাবের সদস্য এবং সোশ্যাল মিডিয়া কমিউনিটির সদস্যদের জন্য “কিনলে একটি ফ্রি” অফারও রাখা হয়েছে।
পহেলা বৈশাখ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবগুলোর একটি। এদিন ঐতিহ্যগতভাবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, মেলা এবং খোলা আকাশের নিচে সমাবেশ হয়। ঢাকা রিজেন্সি এই ঐতিহ্যকে হোটেলের আধুনিক ও আরামদায়ক পরিবেশে নিয়ে এসেছে। হোটেল কর্তৃপক্ষ বলছে, “শৈলী, ঐতিহ্য ও একতার সাথে” বাঙালি নববর্ষ উদযাপনের এটি একটি অনন্য সুযোগ। এখানে পরিবারের সব সদস্য একসঙ্গে আনন্দ করতে পারবেন, নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে পারবেন সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ একটি আবহে।
এই উৎসব শুধু বিনোদনের জন্য নয়, বরং বাংলা সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি মাধ্যমও বটে। শিশুরা যেমন খেলাধুলা ও সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হবে, তেমনি প্রাপ্তবয়স্করা লোকসংগীত ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের মাধ্যমে তাদের শিকড়ের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হবেন। ঢাকার ব্যস্ত নাগরিক জীবনে এমন একটি দিনব্যাপী উৎসব অনেকের জন্যই স্বস্তি ও আনন্দের উৎস হয়ে উঠবে।
হোটেলের এই আয়োজন ঢাকার অন্যান্য বৈশাখী উৎসব থেকে আলাদা হবে তার ব্যাপকতা ও বৈচিত্র্যের কারণে। এক ছাদের নিচে শিশু থেকে বয়স্ক সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে উদযাপনের সুযোগ এখানে মিলবে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এবারের উৎসবে অতিথির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
রিজার্ভেশন ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য অতিথিরা ০১৭১৩৩৩২৬৬১ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন। যারা বাংলা নববর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে চান, তাদের জন্য ঢাকা রিজেন্সির এই দিনব্যাপী উৎসব একটি আদর্শ পছন্দ হবে।
বাংলা নববর্ষ উদযাপনের এই আয়োজন শুধু একটি ইভেন্ট নয়, বরং বাঙালি সংস্কৃতির জীবন্ত প্রকাশ। ঢাকা রিজেন্সি হোটেল এর মাধ্যমে প্রমাণ করছে যে, আধুনিক হোটেলেও ঐতিহ্যকে জীবন্ত রাখা সম্ভব। আসুন, ১৪ এপ্রিল পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে এই বর্ণিল উৎসবে যোগ দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাই শুভেচ্ছা ও আনন্দের সঙ্গে।



