ডলার-সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অর্থনীতি, আমদানিতে গতি ফেরাতে প্রয়োজন সব বিধিনিষেধ প্রত্যাহার

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: দেশে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান ডলার-সংকট এখন অনেকটাই কেটে গেছে। বাজারভিত্তিক ডলার নির্ধারণ নীতি, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি এবং আমদানি নিয়ন্ত্রণের কৌশলের কারণে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে। ফলে আমদানিতে নতুন করে গতি ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার দাবি উঠেছে অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে।

২০২২ সালের শুরুতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্ববাজারে ভোগ্যপণ্য ও জ্বালানির দাম বাড়ায় আমদানি ব্যয় রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে যায়। সে বছরই সরকার আমদানিতে শতভাগ মার্জিন আরোপ, বাড়তি শুল্ক এবং ব্যাংক ঋণে নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে ২০২১–২২ অর্থবছরে যেখানে আমদানি ব্যয় ছিল ৮৯.১৬ বিলিয়ন ডলার, তা ২০২৪–২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে কমে দাঁড়ায় ৬৩.৯৬ বিলিয়ন ডলারে।

ঘুরে দাঁড়ানোর মূল চাবিকাঠি: রেমিট্যান্স ও রপ্তানি

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, বাজারভিত্তিক ডলার নির্ধারণের সিদ্ধান্তের কারণে ব্যাংকগুলোর মধ্যে স্বাভাবিক ডলার লেনদেন শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বিদায়ী ২০২৪–২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৭% বেশি। একইসঙ্গে রপ্তানি খাতেও ৮.৫% প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মুদ্রাবাজারে স্বস্তি ফিরেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে আমদানির ওপর বিদ্যমান বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া দরকার, যাতে ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন করে গতি আসে এবং বিনিয়োগ বাড়ে। এতে অর্থনীতির চাকা আবার সচল হবে।

তবুও কিছু পণ্যে বিধিনিষেধ বহাল

তবে এখনো মোটরকার, ইলেকট্রনিকস, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, স্বর্ণ, সাজসজ্জার সামগ্রীসহ বেশ কিছু পণ্যে শতভাগ নগদ মার্জিন এবং ব্যাংকঋণে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ডলারের বাজার স্বাভাবিক হলেও ব্যাংকগুলো এখনো এলসি খোলার ক্ষেত্রে সতর্কতা বজায় রাখছে।

বিশ্লেষকদের মতামত

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, “ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া ছিল একটি সাহসী সিদ্ধান্ত। এতে করে সংকট কাটাতে সাহায্য হয়েছে। এখন আমদানিতে আরোপিত সব বিধিনিষেধ তুলে দিলে অর্থনীতি নতুন গতি পাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা বাড়বে।”

বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনীতিকে গতিশীল করতে হলে একদিকে যেমন আমদানিতে শিথিলতা আনতে হবে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে।

সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ
‘পর্যটন সংবাদ’ মনে করে, পর্যটনখাতের জন্য আমদানিনির্ভর অনেক সামগ্রী যেমন হোটেল ও রেস্টুরেন্টের যন্ত্রপাতি, ডেকোরেশন আইটেম ইত্যাদি সহজে আমদানির সুযোগ পেলে দেশি পর্যটনখাত আরও বিকশিত হতে পারে। ডলার সংকট কাটিয়ে ওঠার এই সময়টিই হতে পারে সেই সুযোগের দ্বার উন্মোচন।দ

– পর্যটন সংবাদ অর্থনীতি প্রতিবেদক

Read Previous

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ইস্যুতে তৃতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ, পাঠানো হচ্ছে চূড়ান্ত অবস্থানপত্র

Read Next

আইএসপিআর জানায় উত্তরায় বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল যুদ্ধবিমান 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular