১৮/০৪/২০২৬
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক স্থগিত: ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ‘অসার আলোচনায়’ আগ্রহী নন ট্রাম্প

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এমন কোনো বৈঠক চান না যা “অসার ও ফলহীন” হয়। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার পরিকল্পিত বৈঠক আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।

সোমবার হোয়াইট হাউসে বক্তৃতা দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, মস্কো যদি বর্তমান ফ্রন্ট লাইনে যুদ্ধ বন্ধে রাজি না হয়, তাহলে সরাসরি আলোচনার কোনো মানে নেই। তার ভাষায়, “লড়াই যেখানে থেমেছে, সেখানেই থামা উচিত। সবাই ঘরে ফিরুক, রক্তপাত বন্ধ হোক।”

এর আগে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের এখন কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। অথচ মাত্র কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, দুই নেতা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বুদাপেস্টে মুখোমুখি হবেন।

শান্তি প্রস্তাবে অচলাবস্থা

ওয়াশিংটন ও মস্কোর প্রস্তাবের মূল পার্থক্যই আলোচনার পথ রুদ্ধ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, যুদ্ধবিরতির সীমারেখা এখনকার ফ্রন্ট লাইনেই নির্ধারিত হোক। কিন্তু রাশিয়া তা মানতে রাজি নয়। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেস্কভ বলেন, “আমাদের অবস্থান অপরিবর্তিত — ইউক্রেনি বাহিনীকে পুরোপুরি সরে যেতে হবে।”

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ আরও স্পষ্ট করে বলেন, “শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, আমাদের দরকার স্থায়ী শান্তি।” তার ব্যাখ্যায়, স্থায়ী শান্তির মানে হলো ডনবাসে রাশিয়ার পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন এবং ইউক্রেনের নিরস্ত্রীকরণ—যা কিয়েভ ও ইউরোপীয় দেশগুলো একেবারেই অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করে।

ইউক্রেন ও ইউরোপের প্রতিক্রিয়া

ইউরোপীয় নেতারা মঙ্গলবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “যুদ্ধ শেষের প্রথম ধাপ হলো বর্তমান ফ্রন্ট লাইনেই যুদ্ধবিরতি।” তারা রাশিয়াকে “শান্তির প্রতি অনাগ্রহী” বলে অভিযোগ করেন।

জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে আলোচনা বিলম্ব করছে, আর তাদের মূল লক্ষ্য ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র সরবরাহ ঠেকানো। তিনি আবারও স্পষ্ট করে দেন, ডনবাসের কোনো অংশ ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না, “কারণ রাশিয়া সেই অঞ্চলকে পরবর্তী আক্রমণের ঘাঁটি বানাবে।”

উত্তপ্ত ফোনালাপ

বৈঠক স্থগিতের আগে ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে ফোনালাপ হয়, যা একাধিক সূত্র “উত্তপ্ত” হিসেবে বর্ণনা করেছে। কথোপকথনের সময় ট্রাম্প নাকি জেলেনস্কিকে পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকা ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন—যা ইউক্রেন দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভে টোমাহক ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে—এই খবরে মস্কো আলোচনায় আগ্রহ দেখায় বলে দাবি করেন জেলেনস্কি। তার মতে, “ক্ষেপণাস্ত্র বিতর্কই রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে টেনেছে।”

যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না এলেও হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্পের লক্ষ্য এখনো “বাস্তবসম্মত ও স্থায়ী শান্তি”—তবে সেটি “শুধু রাশিয়ার সদিচ্ছায় সম্ভব।”

Read Previous

পাহাড়ঘেরা ঝিরিপথের পায়ে পায়ে রোমাঞ্চ, অদেখা ‘ধুমনি ঘাট’ এখন নতুন ভ্রমণ গন্তব্য

Read Next

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির ১৫ সেনা কর্মকর্তা: শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে তিন মামলার শুনানি আজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular