টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত, কিছু এলাকায় হাউসবোটে নিষেধাজ্ঞা

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের বিখ্যাত টাঙ্গুয়ার হাওর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে বেড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্যের অবসান ঘটিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাওরে পর্যটকদের ভ্রমণে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় হাউসবোট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানিয়েছেন, “পর্যটকদের টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণে কোনো বাধা নেই। তবে ওয়াচ টাওয়ার ও আশপাশের এলাকায় আপাতত হাউসবোট চলবে না। পরিবেশের ক্ষতি হয়—এমন কোনো কার্যক্রম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”

টাঙ্গুয়ার হাওর জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি সংরক্ষিত এলাকা। দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই হাওরের আয়তন প্রায় ১২ হাজার ৬৫৫ হেক্টর। বর্ষাকালে হাওর একসমুদ্র রূপ নেয়, যা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এক আকর্ষণীয় গন্তব্য।

হাওরে বেড়ে যাওয়া হাউসবোট চলাচল জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকির হয়ে উঠছিল বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা। পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, “ওয়াচ টাওয়ার এলাকায় হাউসবোট বন্ধের সিদ্ধান্ত সময়োচিত। পর্যটকেরা বাইরে হাউসবোট রেখে স্থানীয় ছোট নৌকায় ওই এলাকা ঘুরে দেখতে পারবেন। শহীদ সিরাজ লেক, বারিক টিলা, জাদুকাটা নদী, শিমুল বাগানসহ অনেক এলাকাই এখনো দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত।”

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, পরিবেশ-সচেতন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে পর্যটকদের জন্য ১২টি ‘অবশ্যপালনীয়’ নিয়ম চালু করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে শব্দদূষণ ও প্লাস্টিক বর্জন নিষেধ, স্থানীয় সংস্কৃতি ও পরিবেশের প্রতি সম্মান, নির্ধারিত এলাকার বাইরে ভ্রমণ না করা ইত্যাদি।

পর্যটকদের জন্য টাঙ্গুয়ার হাওর এখনো উন্মুক্ত থাকলেও, পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানানো হয়েছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

Read Previous

সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়ক বেহাল, পর্যটনখাতে নেমেছে স্থবিরতা

Read Next

যুদ্ধের উত্তাপ কাতারেও: নিরাপত্তা ঝুঁকিতে দেশের আকাশপথ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular