১৯/০৪/২০২৬
৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুরে আসুন সিলেটের রাংপানি

সিলেট এর শ্রীপুর এলাকায় অবস্থিত সীমান্তবর্তী নদী ‘রাংপানি’ (Ranngpani)। রাংপানির স্বচ্ছ জল মেঘালয়ের জৈন্তা পাহাড়ের রানহংকং জলপ্রপাত থেকে উৎপন্ন হয়েছে। অনেকের কাছে শ্রীপুর পাথর কোয়ারি নামেও পরিচিত। রাংপানি নদীর তীরে খাসিয়াদের মোকামপুঞ্জি গ্রাম অবস্থিত। খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি নামেই ডাকে। রাংপানি ও পুঞ্জির আশেপাশের এলাকায় ৮০-৯০ দশকে অনেক বাংলা চলচিত্রের দৃশ্য ধারন করা হত। নাঈম-শাবনাজ জুটির প্রথম চলচিত্র ‘চাঁদনীর’ জনপ্রিয় গান ‘ও আমার জান, তোর বাঁশি যেন জাদু জানে রে’ ছাড়াও বেশ কিছু দৃশ্য শ্রীপুরের বিভিন্ন স্থানে চিত্রায়ন করা হয়েছিল।

সরকার ঘোষিত পাথরকোয়ারির কারণে এক সময় শ্রীপুর শ্রী হারাতে শুরু করে ফলে পর্যটক আসা কমে যায়। তাই এই প্রজন্মের অনেকের কাছেই রাংপানি অপরিচিত। পাহাড়ি সরু রাস্থা ধরে নিছে নামলেই দেখা মিলবে দুই পাশে কাশফুলের অপরূপ সৌন্দর্য্য।

পর্যটনের অপার সম্ভাবনার এই স্থানটি বহু বছর অবহেলার কারণে জনসাধারণের কাছ থেকে আড়ালে থেকে যায়। সিলেটের জৈন্তাপুর শ্রীপুরের পর্যটন কেন্দ্রের পাশ দিয়ে হেঁটে মোকামপুঞ্জি এলাকায় যাবার মাত্র আধা কিলোমিটার সামনেই রাংপানি এর দেখা মিলবে। বর্তমানে, রংপানিতে আসা যে কোন পর্যটক মোকামপুঞ্জির প্রবেশদ্বার থেকে ৫০০ টাকায় গাইড নিয়ে রাংপানি যেতে পারবেন। এর সাথে যোগ হয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশের নিরাপত্তা সেবা। বর্তমানে এই নদী থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে গেছে এবং নদীটি ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরে আসছে।

রাংপানি’র সৌন্দর্য্য দেখতে হলে সিলেট অবশ্যই আসতে হবে।সিলেট শহর থেকে সিলেট-তামাবিল সড়কে বাস, লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা অথবা ব্যক্তিগত গাড়িতে করে যাওয়া যায় জৈন্তাপুরের শ্রীপুরে। সারা দিনের জন্য সিএনজি ভাড়া করলে ১৭০০ থেকে ২০০০ টাকা খরচ পরবে। জৈন্তাপুর বাজার থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে শ্রীপুর চা বাগান। এর উল্টো দিক ধরে সরু পথ পাড়ি দিলেই রাংপানি নদী। স্থানীয় বারকি নৌকা ভাড়া নিয়ে নদী পার হওয়া যাবে। নৌকার ভাড়া দরদাম করে আগেই ঠিক করে নিতে হবে।

রাংপানিতে থাকার জন্য এখনও তেমন কোন আবাসন ব্যবস্থা তৈরি হয়নি। তাই রাতে থাকতে চাইলে জৈন্তা হিল রিসোর্টে পর্যটকরা থাকতে পারবে। তাছাড়া পর্যটকরা রাতে থাকার জন্য সিলেটেই ফিরে যায়। লালা বাজার এলাকায় ও দরগা রোডে কম ভাড়ায় অনেক মানসম্মত রেস্ট হাউস আছে৷ যেখানে ৪০০ থেকে ২৫০০ টাকায় বিভিন্ন ধরণের রুম পাওয়া যায়। এছাড়াও হোটেল হিল টাউন, গুলশান, দরগা গেইট, সুরমা, কায়কোবাদ ইত্যাদি হোটেলে থাকতে রাত্রি যাপন করা যায়।

খাবার এর জন্য জৈন্তাপুর অথবা মোকামপুঞ্জি চলে আসতে হবে। এখানে হোটেলে স্থানীয় খাবার পরিবেশন করা হয়। আবার জৈন্তা হিল রিসোর্টে সকল ধরনের বাংলা খাবার পাওয়া যায়। জৈন্তা হিল রিসোর্টের খাবার না খেতে চাইলে সিলেটের জিন্দাবাজার এলাকার পানসী, রয়্যাল ডাইন, গ্রান্ড বাফেট রেস্টুরেন্ট, পাঁচ ভাই কিংবা পালকি রেস্টুরেন্টে সুলভ মূল্যে পছন্দমত খাবার খেতে পারবে।

Read Previous

সাউথইস্ট ব্যাংক আর্থিক সহায়তা প্রদান করলো গবেষণা খাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে

Read Next

মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম বদলে গেল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular