
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: ঢাকা থেকে ঘণ্টাখানেকের পথ। ট্রাফিক সামলাতে পারলে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরত্ব। এমন কাছেই যেন আরেক জগৎ—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, গাজীপুর। দেশের অন্যতম বড় এই পার্ক শুধু ভ্রমণ নয়, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পরিবেশ শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবেও আন্তর্জাতিক মানে দাঁড়িয়ে গেছে।
ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠা
২০১০ সালে পরিকল্পনা শুরু, কয়েক বছরের উন্নয়ন শেষে ২০১৩ সালে পার্কটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। বিশাল সল বনাঞ্চল ঘিরে গড়ে ওঠা এই সাফারি পার্কের মূল লক্ষ্য হলো—বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, প্রজনন, গবেষণা এবং পর্যটনকে একসাথে এগিয়ে নেওয়া।
কী আছে ভেতরে
- কোর সাফারি: বাসে বা জীপে করে প্রবেশ করলে চোখের সামনে ঘুরে বেড়ায় সিংহ, বাঘ, জেব্রা, জিরাফ, হরিণের পাল। খাঁচার ভেতর নয়, বরং খোলা বনে এদের দেখা মেলে।
- বৈচিত্র্যের জোন: পাখি শোভা, কুমির পার্ক, কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্র, প্রজাপতি কর্ণার, অর্কিড হাউস—এ যেন প্রকৃতির এক রঙিন প্রদর্শনী।
- সবুজ বনভূমি: সল বন, ঘাসভূমি আর ছোট ছোট জলাশয় মিলিয়ে এখানে হাঁটলেই মনে হয় অন্য এক প্রাকৃতিক দুনিয়ায় এসে পড়েছেন।
খরচ ও টিকিট
প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি প্রায় ৫০ টাকা। কোর সাফারিতে বাস/জীপ ভ্রমণের জন্য গুণতে হয় ১০০–১৫০ টাকা। পার্কিং ফি আলাদা, প্রায় ৫০–৬০ টাকা। বিদেশি পর্যটকদের জন্য আলাদা ট্যারিফ রয়েছে।
যাতায়াত ব্যবস্থা
ঢাকা থেকে সড়কপথে সহজেই যাওয়া যায়। ব্যক্তিগত গাড়ি, ভাড়া করা মাইক্রোবাস কিংবা বাসে করেই বেশিরভাগ মানুষ পৌঁছান। কোনো কোনো ট্যুর অপারেটর দিনের বিশেষ প্যাকেজও অফার করে। রেলপথে সরাসরি যাওয়ার সুযোগ নেই।
ভ্রমণের সেরা সময়
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পার্ক সবচেয়ে প্রাণবন্ত থাকে। সপ্তাহান্তে ভিড় বেড়ে যায়, তাই যাদের ভিড় এড়িয়ে শান্তিতে ঘুরতে ইচ্ছে—তাদের জন্য কর্মদিবসই ভালো।
জরুরি পরামর্শ
- প্রাণীদের খাবার দেবেন না, গাড়ির জানালা খোলা রাখবেন না।
- শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য বিশ্রামের শেড রয়েছে, তবে গরমের দিনে টুপি-পানি সঙ্গে রাখা জরুরি।
- পার্কের ভেতরে খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও নগদ অর্থ হাতে রাখাই ভালো।
অজানা কিছু তথ্য
সাফারি পার্ক শুধু সিংহ-জিরাফ দেখার জায়গা নয়। এখানে কুমির ও কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্র আন্তর্জাতিক মানে গবেষণা করে। আছে অর্কিড ও প্রজাপতির আলাদা প্রদর্শনী, যা অনেক ভ্রমণকারী অবহেলাই করে যান। একই সঙ্গে পার্কটি আশেপাশের গ্রামীণ অর্থনীতিতেও অবদান রাখছে—স্থানীয়দের কর্মসংস্থান বাড়িয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
কেন যাবেন
ঢাকার এত কাছে থেকে প্রকৃতির ভেতর ঢুকে যাওয়ার সুযোগ বিরল। পরিবার, বন্ধু কিংবা শিক্ষা সফর—সব ক্ষেত্রেই গাজীপুর সাফারি পার্ক একদিনের ভ্রমণের জন্য অসাধারণ জায়গা। সকালে গিয়ে কোর সাফারি, দুপুরে পিকনিক বা ফুড কোর্টে বিশ্রাম, বিকেলে পাখি ও প্রজাপতির কর্নার—এভাবেই কেটে যাবে আপনার পুরো দিন।



