
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: দূরের আকাশে রঙিন ভোর, সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জন আর সৌন্দর্যের আকর্ষণে আবারও ভরে উঠেছে কুয়াকাটা সৈকত। ঈদ বা সাপ্তাহিক ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে এসেছে পর্যটননির্ভর এলাকার সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রেস্তোরাঁতে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকালের আগেই সৈকতে ছুটছে পর্যটকেরা। কেউ নোনাজলে গা ভিজাচ্ছেন, কেউ সমুদ্রের সঙ্গে সেলফি তুলতে ব্যস্ত। শিশুরা বালির দুর্গ বানিয়ে খেলায় মগ্ন, আর বড়রা ঘোড়ার পিঠে চড়ে ঝাউবনের দিকে ছুটে যাচ্ছেন। জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে আশেপাশের দর্শনীয় স্থানে পর্যটকের চলাচল চোখে পড়ছে।
খুলনা থেকে আসা পর্যটক আমির হোসেন বলেন, “অনেক দিন ধরে প্ল্যান করেছিলাম আসার। আজ অবশেষে এসে পৌঁছালাম। সমুদ্রের ঢেউ আমাকে মুগ্ধ করেছে। খুব সুন্দর জায়গা।”
পর্যটকদের জন্য কুয়াকাটায় রয়েছে নানা আকর্ষণ। সৈকতের পাশে তাজা সামুদ্রিক মাছের বারবিকিউ, ঝাউবনের সবুজ পরিবেশ, রাখাইন পল্লির সংস্কৃতি, ফাতরার চর, লাল কাঁকড়ার চর, চর গঙ্গামতি এবং সাইকেল বা মোটরবাইকে পুরো সৈকত পাড়ি দেওয়ার সুযোগ।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক সাইফুল ইসলাম জানান, “সাগরের ঢেউ দেখলে খুব ভালো লাগে। তবে সৈকতের কিছু স্থান অত্যন্ত বিপজ্জনক। জিও ব্যাগের কারণে গোসল করা ঝুঁকিপূর্ণ, আর ঢেউয়ের তোড়ে অনেক গর্ত রয়েছে।”
সৈকতের ব্যবসায়ী রুবিনা খাতুন বলেন, “প্রায় দুই মাস ধরে পর্যটক ছিল না। এখন সংখ্যা অনেক বেড়েছে, বেচাকেনাও ভালো হয়েছে।”
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম বলেন, “পর্যটকদের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের কর্তব্য। সাপ্তাহিক ছুটিতে ভিড় বেশি থাকে, তাই আমাদের টিম মাঠে নিয়মিত কাজ করছে এবং পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে।”
কুয়াকাটার সৈকত আবারও প্রাণবন্ত, সমুদ্র আর পর্যটকের মিলনে যেন ভাসছে আনন্দে।



