
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার পর্যটনঘেরা কর্ণফুলী নদী থেকে উদ্ধার হওয়া একটি বিরল প্রজাতির সাম্বার হরিণ আহত অবস্থায় বন বিভাগের হাতে এলেও শেষ রক্ষা হয়নি। শুক্রবার (২৭ জুন) বিকেল ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় এই হরিণটি।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত কাপ্তাইয়ে এমন এক প্রাণী উদ্ধার ও মৃত্যু পর্যটনপ্রেমী ও পরিবেশ সচেতনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে কাপ্তাই পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পীলওয়ে সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে ভেসে থাকা অবস্থায় স্থানীয়রা প্রথমে হরিণটিকে দেখতে পান। খবর পেয়ে বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জের সদস্যরা আহত হরিণটিকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
কর্ণফুলী রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. আবু কাউসার বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হরিণটি পায়ে আঘাত পেলেও মূলত স্ট্রোক করে মারা গেছে। এটি একটি সাম্বার প্রজাতির হরিণ, যা বর্তমানে খুবই বিরল। হরিণটির ওজন আনুমানিক ১০০ কেজি এবং উচ্চতা প্রায় চার ফুট ছিল।”
বন বিভাগের কর্মকর্তারা আরও জানান, সম্ভবত বন্য কুকুরের তাড়া খেয়ে হরিণটি পাহাড়ি এলাকা থেকে প্রাণ বাঁচাতে কর্ণফুলী নদীতে ঝাঁপ দেয়। এতে গুরুতরভাবে আহত হয় পায়ে।
পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় এই কাপ্তাই অঞ্চলে সাম্বার হরিণের মতো বিরল প্রাণীর উপস্থিতি পরিবেশগত ভারসাম্যেরই প্রতিচ্ছবি। তবে এরকম এক প্রাণীর অপমৃত্যু প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিল।
প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন এবং বন বিভাগের প্রতি আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদ ও ভ্রমণপ্রেমীরা।



