
ছবি: সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : বাংলাদেশের সবচেয়ে নবীন বিমান সংস্থা এয়ার অ্যাস্ট্রা আবারও প্রমাণ করেছে তাদের নিরাপত্তা ও মানসম্মত পরিচালনার প্রতিশ্রুতি। ২০২৫ সালের জুনে প্রতিষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করেছে তাদের দ্বিতীয় আইএটিএ অপারেশনাল সেফটি অডিট (আইওএসএ)—যা আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচলে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত। এর ফলে এয়ার অ্যাস্ট্রা এখন ২৪ আগস্ট ২০২৭ পর্যন্ত আইওএসএ নিবন্ধিত বিমান সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি পেল।
আইওএসএ সার্টিফিকেশন কোনো সাধারণ অর্জন নয়। এটি আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ)-এর একটি কঠোর মূল্যায়ন ব্যবস্থা, যা বিশ্বের শীর্ষ বিমান সংস্থাগুলির নিরাপত্তা মান যাচাইয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। বিমান পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, ফ্লাইট অপারেশন, ক্রু প্রশিক্ষণ, জরুরি পরিকল্পনা—সব কিছুই এই নিরীক্ষার আওতায় পড়ে। এক কথায়, এটি একটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা সিল, যা যাত্রীদের আস্থা বাড়ায় এবং কোম্পানির পেশাদারিত্বের প্রমাণ দেয়।
এয়ার অ্যাস্ট্রা প্রথম আইওএসএ সার্টিফিকেশন অর্জন করে ২০২৪ সালে, যা প্রতিষ্ঠানটির জন্য ছিল একটি ঐতিহাসিক অর্জন। মাত্র দুই বছরের কম সময়ে পুনরায় এই সার্টিফিকেশন নবায়ন করতে পারা তাদের প্রস্তুতি ও দক্ষতার ইঙ্গিত দেয়।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ বলেন, “আমরা ফ্লাইট চালু করার আগেই যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণের নিশ্চয়তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছিলাম। আইওএসএ মান বাস্তবায়ন সেই প্রতিশ্রুতিরই অংশ। প্রথম সার্টিফিকেশন পাওয়ার পর এবার সফলভাবে পুনঃনিরীক্ষণ সম্পন্ন করতে পেরে আমরা গর্বিত। আমাদের লক্ষ্য একটাই—প্রতিটি যাত্রী যেন সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং উদ্বেগমুক্তভাবে ভ্রমণ করতে পারে।”
আইএটিএ-অনুমোদিত নিরীক্ষক দল এ বছরের জুনে এয়ার অ্যাস্ট্রার বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর কঠোর মূল্যায়ন চালায়। ফ্লাইট পরিকল্পনা থেকে শুরু করে গ্রাউন্ড অপারেশন, রক্ষণাবেক্ষণ নথি, ক্রুদের দক্ষতা এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা—সব ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক মান পূরণ করতে সক্ষম হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইওএসএ সার্টিফিকেশন কেবল একটি প্রতীক নয়, বরং এটি এয়ারলাইনের অভ্যন্তরীণ দক্ষতা, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং পরিচালনাগত শৃঙ্খলার প্রতিফলন। বর্তমানে বিশ্বের শতাধিক শীর্ষ বিমান সংস্থা এই সার্টিফিকেশন বহন করে, এবং বাংলাদেশে এটি অর্জনকারী সংস্থার সংখ্যা এখনো সীমিত।
এয়ার অ্যাস্ট্রা বর্তমানে ঢাকা থেকে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সৈয়দপুর এবং সিলেট রুটে প্রতিদিন ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তাদের বহরে রয়েছে চারটি আধুনিক ATR 72-600 বিমান, যা টার্বোপ্রপ ক্যাটাগরিতে সর্বাধুনিক এবং জ্বালানি-সাশ্রয়ী মডেল হিসেবে স্বীকৃত।
অভ্যন্তরীণ রুটে দ্রুত যাত্রী সেবা, সময়নিষ্ঠ ফ্লাইট এবং উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা—এই তিনটি দিকেই এয়ার অ্যাস্ট্রা বর্তমানে প্রতিযোগীদের তুলনায় এগিয়ে আছে। প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক রুটে প্রবেশের প্রস্তুতিও নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশের বিমান খাতে যখন নিরাপত্তা ও মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন এয়ার অ্যাস্ট্রার এই অর্জন পুরো শিল্পের জন্য ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করেছে। এটি কেবল একটি সার্টিফিকেট নয়, বরং দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থায় আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক।
আইওএসএ নবায়নের মাধ্যমে এয়ার অ্যাস্ট্রা দেখিয়েছে—নিরাপত্তা তাদের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক বিষয় নয়, বরং এটি তাদের মূল নীতি ও সংস্কৃতির অংশ। আর সেই কারণেই খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সংস্থাটি যাত্রীদের কাছে হয়ে উঠছে নির্ভরযোগ্য ও পছন্দের নাম।



