
ক্যাপ্টেন রাগীব সামাদ, ছবি : সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক। পর্যটন সংবাদ : সৌদি আরব থেকে ফেরত আসা যাত্রীদের লাগেজ এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া এবং কিছু জিনিসপত্র হারানোর অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হৈচৈ পড়ে গেছে। বিশেষ করে একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (এইচএসআইএ) কন্টেইনারভর্তি অগোছালো ব্যাগ নামানো হচ্ছে। কিন্তু বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে—এটি কোনও চুরির ঘটনা নয়, বরং বহিষ্কৃত যাত্রীদের লাগেজ প্রক্রিয়ায় আগের ধাপগুলোর বিশৃঙ্খলার প্রতিফলন।
আউটপাস যাত্রীদের লাগেজ–এর ভিন্ন নিয়ম
এইচএসআইএ–র নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগীব সামাদ জানান, আউটপাস নিয়ে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরত আসা যাত্রীরা সাধারণত বড় লাগেজ বহন করেন না। তারা শুধু ছোট ব্যাগ বা হ্যান্ডক্যারি নিয়ে ভ্রমণ করেন। যেহেতু এসব যাত্রীর বহিষ্কার প্রক্রিয়া সৌদি কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করে, তাই তাদের ব্যক্তিগত ব্যাগগুলোও সৌদির সংশ্লিষ্ট দফতরই বিমানে পাঠায়।
তার ভাষায়, যাত্রীরা ওঠার আগেই এসব ছোট ব্যাগ একটি নির্দিষ্ট কন্টেইনারে প্যাক করা হয়। ফ্লাইট চলাকালীন কখনও ব্যাগ খোলা হয় না, যা সিসিটিভি ফুটেজেও স্পষ্ট।
কন্টেইনার খোলা হয় শুধুমাত্র ঢাকায়
রাগীব সামাদ বলেন, কন্টেইনারগুলো ঢাকায় ব্যাগেজ বেল্টের সামনে খোলা হয় এবং তখনই সমস্ত ব্যাগ বাইরে আনা হয়। যেহেতু সব ব্যাগ একই জায়গা থেকে একসাথে আসে, তাই এগুলো সুশৃঙ্খলভাবে সাজিয়ে দেওয়ার কাজটা সহজ নয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে এই বিশৃঙ্খল অবস্থাই দেখা গেছে।
তিনি বলেন, “কেউ ব্যাগ খুলেছে—এটা গল্প। বাস্তবে যা হয়েছে, সেটা হলো প্রচুর ব্যাগ একত্রে পাঠানো হয়েছে, আর ঢাকায় একসাথে নামানোর সময় দৃশ্যটা অগোছালো হয়ে গেছে।”
মোবাইল হারানোর অভিযোগের বাস্তবতা
ভিডিওতে মোবাইল ফোন হারানোর অভিযোগও উঠে আসে। এ বিষয়ে সামাদ ব্যাখ্যা করেন, জেদ্দা বিমানবন্দরে ব্যাগগুলো এক্স-রে স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের স্টেশন ম্যানেজারও নিশ্চিত করেছেন যে সৌদি কর্তৃপক্ষ আগেই ব্যাগগুলোর অবস্থান সম্পর্কে অবগত ছিল।
আরেকটি জটিল দিক হলো—অনেক যাত্রী তাদের ব্যাগে একাধিক ফোন রাখতেন। কখনও কখনও আট থেকে দশটি ফোন এক ব্যাগে পাওয়া যেত। পরে কোন ফোন কার তা শনাক্ত করাই হয়ে দাঁড়ায় বড় সমস্যা।
সমন্বয়ের অভাবেই বিশৃঙ্খলা
রাগীব সামাদ জানান, সাধারণত স্থানীয় পুলিশ বাহিনী আউটপাস যাত্রীদের একটি গ্রুপ হিসেবে ভ্রমণের ব্যবস্থা করে। এতে বিমানবন্দর প্রক্রিয়া সহজ হয়। কিন্তু এবার যাত্রীদের বিভিন্ন ফ্লাইটে টিকিট দেওয়া হয়, যার ফলে আগমনের সময় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।
তার কথায়, “যাত্রীরা যখন এলোমেলোভাবে আসে, তখন ঢাকার প্রান্তে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। এটাকে আমাদের ভুল বলা ঠিক নয়।”
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অবস্থান
এইচএসআইএ জানিয়েছে, তারা আগত যাত্রীদের লাগেজ দ্রুত ও সঠিকভাবে ফেরত দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে যেসব দেশ থেকে যাত্রীরা ফেরত আসে, সেসব পয়েন্টে লাগেজ পরিচালনা আরও সুশৃঙ্খল হওয়া জরুরি। ঢাকার বিমানবন্দর কেবল আগমন ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করে, লাগেজের প্রাথমিক প্যাকিং বা নিরাপত্তা পরীক্ষা তাদের হাতে নেই।
পুরো বিতর্কের মূল বার্তা স্পষ্ট—এটি কোনও চুরির ঘটনা নয়, বরং আউটপাস যাত্রীদের লাগেজ প্রক্রিয়ায় সৌদি প্রান্তের সমন্বয়হীনতা, একাধিক ফোনের মালিকানা বিভ্রান্তি, এবং এলোমেলো ফ্লাইট ব্যবস্থাপনার ফল। ঢাকার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা প্রক্রিয়াটি যতটা সম্ভব স্বচ্ছ রাখতে কাজ করছে, আর সিসিটিভি ফুটেজও দেখাচ্ছে যে কোনও ব্যাগ ফ্লাইট চলাকালীন খোলা হয়নি।
চূড়ান্তভাবে, যাত্রীদের নিরাপদ ও সুষ্ঠু আগমন নিশ্চিত করা বিমানবন্দরের কাজ, আর লাগেজ পাঠানোর আগের ধাপগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করা সৌদি কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব—এ কথাই মনে করিয়ে দিলেন এইচএসআইএ–র নির্বাহী পরিচালক।
প্রতিবেদক : মুহাম্মদ শফিকুল আশরাফ



