
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ রাত ১২টার পর আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বিমান হামলা এবং সাইবার আক্রমণের ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ইসরায়েল তেহরান ও ইস্ফাহানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, অন্যদিকে ইরান দক্ষিণ ইসরায়েলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হেনেছে।
গত রাতের সংঘর্ষে ইরানে বেশ কয়েকটি স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ইস্ফাহান অঞ্চলে সামরিক স্থাপনাসহ আশপাশের বেসামরিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলেও রকেট হামলার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
ইরানে ইন্টারনেট আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রবেশে বাধা তৈরি হওয়ায় দেশটির সাধারণ জনগণ কার্যত তথ্যবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অবস্থা ইরান সরকারের তথ্যনিয়ন্ত্রণ নীতির অংশ।
যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সংঘর্ষ বন্ধে আহ্বান জানিয়েছে। চীন ও রাশিয়া উভয় পক্ষকে সংযত হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রতি তাদের অবস্থান দৃঢ় করেছে, যদিও সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে এখনো অংশ নেয়নি।
যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ইউরোপীয় দেশগুলো আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইরান জানিয়েছে, সামরিক আগ্রাসন চলাকালে কোনো কূটনৈতিক আলোচনায় তারা আগ্রহী নয়। ফলে পরবর্তী সময়ের জন্য রাজনৈতিক সমাধান কার্যত অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
ইরান ও ইসরায়েল উভয় দেশই সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করেছে। যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে সংঘাত সীমিত যুদ্ধ থেকে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব গোটা মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
রাত ১২টার পর থেকে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন মাত্রায় প্রবেশ করেছে। বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মধ্যে দিয়ে যুদ্ধের ভয়াবহতা বাড়ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা এই অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।



