পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ওয়াশিংটন ও মস্কো ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক ফোনালাপের পর হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে সম্ভাব্য শান্তি বৈঠকের ঘোষণা আসে।
দুই সপ্তাহের মধ্যেই মুখোমুখি বৈঠক
ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেন সংকট সমাধানে তিনি শিগগিরই ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তার ভাষ্য, ফোনালাপে অগ্রগতি হয়েছে এবং এখন সরাসরি আলোচনার সময়। দুই সপ্তাহের মধ্যেই এই বৈঠক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওয়াশিংটনে জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনা
এই ফোনালাপের পরদিনই হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ট্রাম্প। জেলেনস্কি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব পুনরায় তুলবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র হাতে পেলে রাশিয়ার গভীরে আঘাত হানার সুযোগ পাবে ইউক্রেন।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, পুতিনের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়টি তিনি সরাসরি জেলেনস্কিকে জানাবেন।
মাঠ পর্যায়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন ও মস্কো
ট্রাম্প জানান, দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসবেন যাতে বুদাপেস্ট আলোচনার জন্য কার্যকর রূপরেখা তৈরি করা যায়। গত আগস্টে আলাস্কার বৈঠকের পর এটিই দুই নেতার মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ।
চাপের কৌশলে জেলেনস্কি
এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে জেলেনস্কি বলেন, “রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে আনতে হলে শক্তি ও ন্যায়ের ভাষায় কথা বলতে হবে। তারা যখনই টমাহকের নাম শোনে, তখনই আলোচনার আগ্রহ দেখায়।”
কূটনীতির ফাঁকে বাড়ছে হামলা
এদিকে রুশ বাহিনী নতুন করে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। শতাধিক ড্রোন ও ডজনখানেক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। আটটি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়।
এই সপ্তাহেই রুশ হামলায় একটি হাসপাতাল ও জাতিসংঘের কনভয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অপরদিকে ইউক্রেন রাশিয়ার সারাতভ অঞ্চলের তেল শোধনাগারে পাল্টা আঘাত হেনেছে।
একদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে ধোঁয়া উঠছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক মঞ্চে নতুন আলোচনার প্রস্তুতি—এখন নজর বুদাপেস্টে। এই বৈঠক কি সত্যিই শান্তির পথে মোড় ঘোরাবে, নাকি সংঘাতের নতুন অধ্যায় শুরু হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।



