আলাস্কার বৈঠক: কূটনীতির জয়, কিন্তু ইউক্রেনের জন্য ঝুঁকি

মতামত। পর্যটন সংবাদ

রাশিয়ার সেনারা ইউক্রেনে কোনো বড় জয় পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। ফ্রন্টে অগ্রগতি হচ্ছে সামান্য, কখনও একেবারেই কিছু নয়। কিন্তু কূটনীতির মাঠে ছবি আলাদা। প্রেসিডেন্ট পুতিন আলাস্কায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে এমন একটি অবস্থান দেখিয়েছেন যা আন্তর্জাতিকভাবে রাশিয়ার জন্য বড় কূটনৈতিক জয় হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।

বৈঠকের আড়ালে আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশিত হয়নি। তবে যা স্পষ্ট, তা হলো ট্রাম্প বৈঠকে যুদ্ধবিরতির বদলে ‘সংঘাত মীমাংসা চুক্তি’ নিয়ে আগ্রহী হয়েছেন। এটিই বোঝায় যে, ট্রাম্প ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে পুতিনের দাবিকে মোটেও অস্বীকার করেননি, যদিও তিনি রাশিয়ার দখলের দাবি মানেননি। ফলে ইউক্রেনের জন্য এই বৈঠক সরাসরি কোনো নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়নি।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলোর কৌশল। পুতিন জানেন, ট্রাম্প প্রশংসা পেতে ভালোবাসেন। ইউক্রেন ও ইউরোপ যদি এটি কাজে লাগাতে পারে, তবে ট্রাম্পকে কূটনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা সম্ভব। অন্যদিকে, যদি পশ্চিমা দেশগুলো যথাযথভাবে না চালাতে পারে, তবে আলাস্কার বৈঠক ‘নতুন ইয়াল্টা’ রূপ নিতে পারে—যেখানে বড় শক্তিধর দেশগুলো ছোট রাষ্ট্রের ভাগ্য ঠিক করে দেবে।

সত্যি কথা হলো, কূটনৈতিক দৃষ্টিতে পুতিনের অবস্থান শক্তিশালী। কিন্তু ইউক্রেনের টিকে থাকার লড়াই এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের ওপর নির্ভর। ফ্রন্টে যুদ্ধ থেমে নেই, এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির জয়গুলো ইউক্রেনের জন্য সরাসরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে না। এই বৈঠক আমাদের মনে করিয়ে দেয়, যুদ্ধক্ষেত্রের অগ্রগতি এবং কূটনৈতিক ‘জয়’ সবসময় সমান নয়।

যা স্পষ্ট, তা হলো—ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলোকে এখন আরও সক্রিয় কৌশল নিতে হবে, যাতে আলাস্কার মতো বৈঠকগুলো ভবিষ্যতে ইউক্রেনের স্বার্থের বিপরীতে কাজে না লাগে। কূটনীতি যেই জয়ই হোক, ফ্রন্টলাইনেই জীবনের মূল্য ঠিক হয়।

-নাদিয়া আক্তার

Read Previous

৮৫৭ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতি: এক্সিম ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

Read Next

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে চাকরি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular