
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরে তাকে কলম্বোর নিউ ম্যাগাজিন কারাগারে পাঠানো হয়।
বিরোধী দলগুলোর দাবি, বিক্রমাসিংহে আবারও ক্ষমতায় ফিরতে পারেন—এই আশঙ্কায় দিসানায়েকে নেতৃত্বাধীন বামপন্থি সরকার তাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করতে চাচ্ছে। ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) মহাসচিব থালাথা আতুকোরালা বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তার করা সরকারের ভয় থেকেই এসেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি যুক্তরাজ্যে ব্যক্তিগত সফরে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহার করেছিলেন। ভ্রমণ ব্যয় বাবদ ১ কোটি ৬৬ লাখ রুপি (প্রায় ৫৫ হাজার ডলার) সরকারি তহবিল খরচের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং আত্মসাৎকৃত অর্থের তিনগুণ পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে পারেন তিনি। তবে বিক্রমাসিংহে দাবি করেছেন, তার স্ত্রীর সফরের খরচ তিনি নিজেই বহন করেছেন, সরকারি অর্থ নয়।
শ্রীলঙ্কার বর্তমান প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। ইতোমধ্যে সাবেক দুই মন্ত্রীকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, রাজাপাকসে পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও মামলা চলছে। সম্প্রতি পুলিশ প্রধান ও কারা প্রধানকেও দুর্নীতির দায়ে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া গোটাবায়া রাজাপাকসের পর প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন বিক্রমাসিংহে। তার নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কা আইএমএফ থেকে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নিশ্চিত করে এবং অর্থনীতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়। কিন্তু গত বছরের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হয়ে ক্ষমতা হারান।



