
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: চীন তার ভিসামুক্ত প্রবেশ নীতি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করেছে, যার ফলে এখন বিশ্বের ৭৪টি দেশের নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই দেশটিতে সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত ভ্রমণ করতে পারছেন। অভ্যন্তরীণ পর্যটনকে পুনরুজ্জীবিত এবং অর্থনীতিকে চাঙা করার লক্ষ্যেই এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে বেইজিং।
২০২৩ সালের শেষদিক থেকে পর্যায়ক্রমে চালু হওয়া এই নীতির আওতায় ইউরোপ, এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দুই কোটিরও বেশি পর্যটক ভিসা ছাড়াই চীন ভ্রমণ করেছেন, যা ২০২৩ সালের তুলনায় দ্বিগুণ এবং সব বিদেশি আগমনের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি।
অস্ট্রিয়ার পর্যটক জর্জি শাভাদজে বলেন, “ভিসা ছাড়া চীনে আসা অনেক সহজ হয়েছে। আগে দূতাবাসে গিয়ে আবেদন করা, কাগজপত্র জমা দেওয়া—সব মিলিয়ে কঠিন ও সময়সাপেক্ষ ছিল।” একই কথা জানিয়েছেন নরওয়ের পর্যটক অইস্টাইন স্পোরশেইম, যিনি শিশু সন্তান নিয়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসা প্রক্রিয়াকে ‘বড় চ্যালেঞ্জ’ বলেও উল্লেখ করেন।
যদিও এখনো অধিকাংশ পর্যটক অভ্যন্তরীণ, তবে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বেইজিংয়ের ইংরেজিভাষী ট্যুর গাইড গাও জুন জানান, তিনি অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি পর্যটকদের চাপে অভিভূত এবং এই নতুন চাহিদা মেটাতে গাইডদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছেন।
ট্যুরিজম এজেন্সি ‘ওয়াইল্ডচায়না’-এর মুখপাত্র জেনি ঝাও জানান, তাদের ব্যবসা এখন মহামারিপূর্ব সময়ের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোপীয় পর্যটকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে—২০১৯ সালে যেখানে ছিল ৫ শতাংশ, সেখানে এখন তা দাঁড়িয়েছে ১৫-২০ শতাংশে।
ভিসামুক্ত না হলেও আরও ১০টি দেশের নাগরিকরা চীনে ভ্রমণের বিশেষ ট্রানজিট সুবিধা পাচ্ছেন। চীনের ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, এসব দেশের যাত্রীরা দুটি ভিন্ন দেশে ভ্রমণের পথে চীনে সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবেন নির্দিষ্ট ৬০টি বন্দরের মাধ্যমে প্রবেশের শর্তে। এই তালিকায় রয়েছে—চেক প্রজাতন্ত্র, লিথুয়ানিয়া, সুইডেন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন, ইন্দোনেশিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো।
সাংহাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে শহরটিতে ২৬ লাখেরও বেশি বিদেশি পর্যটক এসেছেন, যার অর্ধেকেরও বেশি এসেছেন ভিসা-মুক্ত ব্যবস্থার সুবিধায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীনের এই নীতিগত পরিবর্তন বৈশ্বিক পর্যটনপ্রেমীদের জন্য যেমন আশার বার্তা, তেমনি দেশটির অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।



