
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: একটি কমিক বইয়ের কাল্পনিক ভবিষ্যদ্বাণীকে কেন্দ্র করে জাপানে পর্যটন খাতে দেখা দিয়েছে ব্যাপক অস্থিরতা। বিশেষ করে হংকং থেকে আগত পর্যটকের সংখ্যা হঠাৎ করে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় কয়েকটি এয়ারলাইনস তাদের ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে।
সম্প্রতি জাপানের পর্যটনে এক অভাবনীয় উল্লম্ফন দেখা গেলেও মে মাসে সেই প্রবাহে ব্রেক লেগেছে। এপ্রিল মাসে ৩.৯ মিলিয়ন পর্যটক জাপান ভ্রমণ করলেও, মে মাসে সেই সংখ্যা চোখে পড়ার মতোভাবে কমে যায়। জাপানের জাতীয় পর্যটন সংস্থার পরিসংখ্যান বলছে, শুধু হংকং থেকেই আগত পর্যটকের সংখ্যা কমেছে ১১ শতাংশ।
হংকংভিত্তিক ট্রাভেল এজেন্সি ‘ঈজিএল ট্যুরস’-এর প্রধান নির্বাহী স্টিভ হিউয়েন জানান, সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি কমিক বইয়ের ভবিষ্যদ্বাণী এই ধসের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, “এই গুজব আমাদের ব্যবসায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। জাপানমুখী আমাদের ভ্রমণ প্যাকেজ অর্ধেকে নেমে এসেছে।”
এই আলোচিত কমিকটির নাম ‘দ্য ফিউচার আই সো’, যার লেখক রিও তাতসুকি। ১৯৯৯ সালে প্রথম প্রকাশিত হওয়া এই বইটি ২০২১ সালে পুনর্মুদ্রণ করা হয়। কমিকটিতে উল্লেখ আছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে জাপানসহ আশপাশের অঞ্চলে একটি বিশাল ভূমিকম্প ও সুনামি আঘাত হানবে। যদিও লেখক নিজেই এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তিনি “ভবিষ্যদ্বক্তা নন” এবং এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলো কেবল গল্পের অংশ।
তবে কমিকটির প্রথম সংস্করণে ২০১১ সালের মার্চে একটি দুর্যোগের ইঙ্গিত ছিল, আর সেই সময়েই ঘটে যায় জাপানের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামি—যা ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয় ডেকে আনে। এ কারণে অনেকেই বইটির সর্বশেষ সংস্করণকে বাস্তবতার ছায়া বলে ধরে নিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আতঙ্কের প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলে। হংকং-ভিত্তিক বাজেট এয়ারলাইন গ্রেটার বে এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, যাত্রী সংকটের কারণে তারা সেপ্টেম্বর থেকে জাপানের টোকুশিমা রুটে ফ্লাইট স্থগিত রাখবে।
জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এটি পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। তবে ভূমিকম্পের নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া এখনও অসম্ভব বলেই মনে করেন বিজ্ঞানীরা। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূকম্পবিদ অধ্যাপক রবার্ট গেলার বলেন, “আমার ৫০ বছরের গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো ভূমিকম্প পূর্বাভাসই সঠিকভাবে মিলেনি।”
পর্যটন শিল্পে এই গুজবের নেতিবাচক প্রভাব ঠেকাতে বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি ছাড়মূল্য ও ভূমিকম্প বিমার মতো নতুন সুবিধা চালু করেছে। এতে করে পর্যটক সংখ্যা একেবারে শূন্যে নামেনি, তবে এখনও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তবতাকে ভিত্তি না করে কাল্পনিক গুজবের উপর নির্ভর করা অনুচিত। পর্যটন সংশ্লিষ্ট সবাই আশাবাদী, সঠিক তথ্য এবং দায়িত্বশীল প্রচারের মাধ্যমে আতঙ্ক কেটে যাবে এবং জাপান আবারও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে আসবে।



