
নিউইয়র্কগামী ফ্লাইটে চিকিৎসক যাত্রী গুরুতর অসুস্থ, দায়ের হলো মামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:জার্মানি থেকে নিউইয়র্ক সিটিগামী একটি ট্রান্সআটলান্টিক ফ্লাইটকে মাঝ আকাশে ভয়াবহ এক পরিস্থিতির মুখে ফ্রান্সের প্যারিসে জরুরি অবতরণ করতে হয়েছে। ফ্লাইটে থাকা এক যাত্রী মারাত্মক শেলফিশ অ্যালার্জির শিকার হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে বিমানটিকে এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
৪১ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক ডোরিন বেনারি পেশায় একজন শিশু জরুরি বিভাগের চিকিৎসক। তিনি অভিযোগ করেছেন, তার শেলফিশে তীব্র অ্যালার্জি রয়েছে—বিষয়টি আগেই কেবিন ক্রুদের জানানো হলেও, তাদের অবহেলার কারণে তাকে চিংড়িযুক্ত খাবার পরিবেশন করা হয়। পরবর্তীতে সেই খাবার খেয়ে তিনি মারাত্মক শারীরিক প্রতিক্রিয়ার শিকার হন।
বিমানের গন্তব্য বদলে প্যারিস অবতরণ
ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের SQ026 নম্বর ফ্লাইটটি ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বেনারি বিজনেস ক্লাসে যাত্রা করছিলেন। কেবিন ক্রুদের আগেভাগেই সতর্ক করার পরও ভুলবশত তাকে চিংড়ি দেওয়া খাবার পরিবেশন করা হয়।
ভুল বুঝতে পেরে কেবিন ক্রুরা দুঃখ প্রকাশ করলেও, ততক্ষণে বেনারির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। দ্রুত ব্যবস্থা হিসেবে বিমানটিকে প্যারিসে জরুরি অবতরণ করানো হয়। অবতরণের পরপরই বেনারিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তাকে জরুরি চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
আইনি পদক্ষেপ ও ক্ষতিপূরণ দাবি
ঘটনার পর বেনারি নিউইয়র্কের একটি আদালতে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে একটি ফেডারেল মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেছেন, কেবিন ক্রুদের আগেভাগেই সতর্ক করার পরও এ ধরনের মারাত্মক ভুল চূড়ান্ত অবহেলারই পরিচায়ক। এ ঘটনায় তিনি মানসিক, শারীরিক এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
মামলায় বেনারির আইনজীবী আব্রাম বোহরার সাংবাদিকদের জানান, মক্কেলের অনুমতি ছাড়া মামলার বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবেন না।
শেলফিশ অ্যালার্জি কতটা ভয়াবহ হতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, শেলফিশ অ্যালার্জি অত্যন্ত বিপজ্জনক। আক্রান্ত ব্যক্তি অ্যানাফিল্যাকটিক শকের শিকার হতে পারেন, যা শ্বাসনালী বন্ধ করে দিয়ে জীবন বিপন্ন করে তোলে। জরুরি চিকিৎসা ছাড়া এর পরিণতি হতে পারে মারাত্মক। এমনকি, এক কেস স্টাডিতে দেখা গেছে, কেউ একজন চিংড়ি খাওয়ার পর তার সঙ্গীকে চুম্বন করায় তিনিও অ্যানাফিল্যাকসিসে আক্রান্ত হন।
বিমানবন্দরে অ্যালার্জি পরিস্থিতি—বর্ধিত সতর্কতা প্রয়োজন
এ ধরনের ঘটনা যদিও বিরল, তবে এর আগেও ঘটেছে। ২০১৯ সালে বাদামে অ্যালার্জিযুক্ত এক যাত্রীকে ভুলবশত বাদাম পরিবেশন করায় একটি ফ্লাইট মিয়ামি থেকে ফিলাডেলফিয়াগামী পথ ছেড়ে জরুরি অবতরণ করে। এমনকি, ২০২২ সালে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট হনোলুলুতে অবতরণে বাধ্য হয় একই কারণে।
বর্তমান FAA নীতিমালা অনুযায়ী, ফ্লাইটে প্রাথমিক চিকিৎসা কিটে এপিনেফ্রিন রাখা বাধ্যতামূলক। তবে তা প্রয়োগে প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের প্রয়োজন হয়, যেটি সব সময় সম্ভব হয় না।
ডোরিন বেনারির এই ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে একটি বড় প্রশ্ন তুলেছে—বিমানে অ্যালার্জি সংক্রান্ত যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কী পদক্ষেপ নেয়া উচিত? এই মামলার পরিণতি শুধু বেনারির জন্য নয়, ভবিষ্যতের যাত্রী সুরক্ষার জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ নজির হতে পারে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট



