১৮/০৪/২০২৬
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর: রেকর্ড আসন ধারণক্ষমতায় বিশ্বের শীর্ষস্থান অটুট

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (DXB) আবারও বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর হিসেবে তার অবস্থান ধরে রেখেছে। বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলের বিশ্লেষণকারী সংস্থা OAG-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রায় ৪.৯ মিলিয়ন আসন নির্ধারিত হয়েছে। এই সংখ্যা উভয় দিকের যাতায়াত বিবেচনা করলে প্রায় ৯.৮ মিলিয়ন আসনের সমতুল্য, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় ২% বৃদ্ধি দেখিয়েছে। এই অসাধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি দুবাইকে বিশ্বের বিমানবন্দর র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে রাখতে সাহায্য করেছে, যা আন্তর্জাতিক বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে এর অব্যাহত আধিপত্যের প্রমাণ। OAG-এর তথ্যগুলো দেখিয়েছে যে, বিশ্বব্যাপী চাহিদার পরিবর্তন সত্ত্বেও দুবাইয়ের বিমানবন্দর এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে, যা পর্যটন এবং ব্যবসায়িক ভ্রমণের জন্য এর গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।

এই ফেব্রুয়ারির ফলাফল দুবাই ইন্টারন্যাশনালের জন্য একটি রেকর্ড-স্থাপনকারী ধারাবাহিকতার অংশ। গত বছর থেকে শুরু করে এই বিমানবন্দর ক্রমাগত ক্ষমতা বৃদ্ধি করে চলেছে। ২০২৫ সালে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে এটি সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছিল, এবং ডিসেম্বর মাসে আরও একটি রেকর্ড গড়ে যখন যাত্রী সংখ্যা বিমানবন্দরের ৬৫ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মাসিক পর্যায়ে উঠেছিল। ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে মাত্র, বিমান সংস্থাগুলো দুবাইয়ের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৪ লক্ষ আন্তর্জাতিক আসন নির্ধারণ করেছে, যা উভয় দিকে প্রায় ২০ কোটি ৮ লক্ষ আসনের সমান। এই বৃদ্ধি বিমান সংস্থাগুলোর পরিষেবা সম্প্রসারণের ফলাফল, যা বছরের শুরুতে শক্তিশালী চাহিদা মেটাতে সাহায্য করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, এই বৃদ্ধির পিছনে দুবাইয়ের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পর্যটনের প্রসার এবং আন্তর্জাতিক সংযোগের উন্নতি রয়েছে। দুবাইয়ের অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় এটি ইউরোপ, এশিয়া এবং আফ্রিকার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাব হিসেবে কাজ করে, যা বিমান সংস্থাগুলোকে আরও ফ্লাইট যোগ করতে উৎসাহিত করে।

আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট মিলিয়ে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফেব্রুয়ারিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রায় ৪.৬ মিলিয়ন আসন নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের উপর নির্ভরশীল। এরপর সাংহাই পুডং ৪.২ মিলিয়ন আসন নিয়ে তৃতীয়, টোকিও হানেদা ৪.১৮ মিলিয়ন আসন নিয়ে চতুর্থ এবং গুয়াংজু বাইয়ুন ৪.১৬ মিলিয়ন আসন নিয়ে পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে। এই র‍্যাঙ্কিং দেখিয়েছে যে, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিমানবন্দরগুলো দ্রুত উন্নয়নশীল, যেখানে ইউরোপীয় এবং আমেরিকান বিমানবন্দরগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। বিশেষ করে, দুবাইয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আসনের পরিমাণে লন্ডন হিথ্রো ৩.৬ মিলিয়ন আসন নিয়ে দ্বিতীয়, সিউল ৩.৫ মিলিয়ন, সিঙ্গাপুর ৩.৪ মিলিয়ন এবং হংকং ৩.২ মিলিয়ন আসন নিয়ে পরবর্তী স্থানগুলো দখল করেছে। এই তুলনামূলক তথ্যগুলো থেকে স্পষ্ট যে, দুবাইয়ের বিমানবন্দর তার প্রতিযোগীদের থেকে অনেক এগিয়ে, যা তার অবকাঠামো এবং পরিষেবার উন্নতির ফল।

এই ধারণক্ষমতার পরিসংখ্যান দুবাই ইন্টারন্যাশনালের শক্তিশালী যাত্রী কর্মক্ষমতার প্রতিফলন। ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই বিমানবন্দর ২৪.২ মিলিয়ন যাত্রী পরিবহন করেছে, যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ১.৯% বেশি। এর ফলে বছরের প্রথম নয় মাসে মোট যাত্রী সংখ্যা ৭০.১ মিলিয়নে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় ২.১% বৃদ্ধি। এছাড়া, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ৮৮ লক্ষ যাত্রী এই বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করেন, যা গত বছরের ৮৩ লক্ষের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায়।

এই মাইলফলকগুলো দুবাইয়ের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিমানবন্দরটি শহরের পর্যটন, বাণিজ্য এবং লজিস্টিকসের মূল চালক। প্রাথমিক সূচকগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, ২০২৫ সালে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবন্দর হিসেবে তার মর্যাদা ধরে রাখবে, যা টানা ১২ বছর ধরে চলছে। দুবাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ শীঘ্রই গত বছরের সম্পূর্ণ যাত্রী পরিসংখ্যান প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা আরও বিস্তারিত ছবি দেবে।

দুবাইয়ের এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে তার উন্নত অবকাঠামো, যেমন আধুনিক টার্মিনাল, দ্রুত চেক-ইন প্রক্রিয়া এবং বিশ্বমানের সুবিধা। বিমান সংস্থাগুলো যেমন এমিরেটস এবং ফ্লাইদুবাই এখানে তাদের হাব হিসেবে ব্যবহার করে, যা আন্তর্জাতিক সংযোগ বাড়ায়। পর্যটকরা দুবাইকে তার বিলাসবহুল হোটেল, শপিং মল এবং সাংস্কৃতিক আকর্ষণের জন্য পছন্দ করেন, যা বিমানবন্দরের ট্র্যাফিক বাড়াতে সাহায্য করে। তবে, বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ যেমন জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি বা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও দুবাই তার লক্ষ্য অর্জন করছে। ভবিষ্যতে, আল মাকতুম ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের সাথে দুবাইয়ের বিমান চলাচল আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সাফল্য দুবাইকে বিশ্বের পর্যটন হাব হিসেবে আরও দৃঢ় করে তুলেছে, যা অন্যান্য দেশের বিমানবন্দরগুলোর জন্য অনুসরণীয় উদাহরণ।

সূত্র: গাল্ফ নিউজ এবং OAG প্রতিবেদন।

Read Previous

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা: পর্যটন খাতে বাড়ছে অনিশ্চয়তা ও ক্ষতির শঙ্কা

Read Next

জাতিসংঘ পর্যটনের নতুন রোডম্যাপ: ২০২৭ সালের টেকসই পর্যটন বছরের দিকে অগ্রসর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular