
ছবি : সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় শাহবাগে সোমবার জাতীয় ছাত্রশক্তির ডাকে ব্লকেড কর্মসূচি পালিত হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের এখনো গ্রেপ্তার না হওয়াকে কেন্দ্র করে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড়ে জড়ো হয়ে অবস্থান নেন। এতে শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট, ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা। তবে আন্দোলনকারীরা জানান, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে জনদুর্ভোগ তৈরি করতে চান না এবং শান্তিপূর্ণভাবেই কর্মসূচি পালন করছেন।
কর্মসূচি চলাকালে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের স্লোগানে উঠে আসে শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার বিচার, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি। আন্দোলনকারীদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরাধ ও সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে, কিন্তু এসব ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন ব্যর্থ হচ্ছে।
জাতীয় ছাত্রশক্তির পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে সংগঠনের নেতা আবু বাকের মজুমদার বলেন, এই আন্দোলন কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য নয়। তিনি বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন করছি। আমাদের কর্মসূচি জনদুর্ভোগ বাড়ানোর জন্য নয়, বরং জনমত ও ন্যায়ের পক্ষে।” তিনি আরও বলেন, শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার মতো গুরুতর ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার না করা প্রশাসনিক ব্যর্থতারই প্রমাণ।
আবু বাকের মজুমদার দাবি করেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্যর্থ হয়েছেন। এই ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে তার পদত্যাগ করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যেন দ্রুত এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
ব্লকেড কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শাহবাগ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকলেও দুপুর পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আশপাশের সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল সীমিত রাখা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিভিন্ন সহিংস ঘটনার বিচার নিয়ে জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে। ছাত্র সংগঠনগুলোর এই আন্দোলন সেই অসন্তোষেরই প্রতিফলন। তারা মনে করছেন, সরকার যদি দ্রুত দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে এই ধরনের আন্দোলন আরও জোরালো হতে পারে।
কর্মসূচি শেষে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা জানান, তারা সরকারের পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করবেন। দাবি আদায়ে অগ্রগতি না হলে আগামী দিনে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। তাদের ভাষায়, এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে একটি গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ।



