
ছবি : সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : রাজধানীর বনানীতে হোটেল সারিনায় অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে জার্মান এয়ারলাইন হ্যান এয়ার তাদের HR-169 প্ল্যাটফর্মকে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করে। এই প্ল্যাটফর্ম চালু হওয়ার পর বাংলাদেশি যাত্রীরা এখন ১৯০-এর বেশি দেশে ৪,৪০০টিরও বেশি গন্তব্যে একক টিকিটে পৌঁছাতে পারবেন। আগে যে রুটগুলো পেতে বারবার বদলি, জটিল বুকিং অথবা অসম্ভব রুটিংয়ের মুখোমুখি হতে হতো, এবার সেই বাধাগুলো অনেকটাই কমে যাচ্ছে।
হ্যান এয়ারের বাংলাদেশি জিএসএ রিদম গ্রুপের ব্যবসায়িক উন্নয়ন প্রধান মো. মাসুদুজ্জামান এটিকে দেশের ভ্রমণ খাতের জন্য “রূপান্তরমূলক” পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেন। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে যেসব গন্তব্যে পৌঁছানো ছিল কঠিন—বিশেষ করে আফ্রিকা বা দক্ষিণ আমেরিকার বহু দূরের শহর—এখন সেগুলোও একক টিকিটে পাওয়া সম্ভব। অভিবাসী কর্মী, যারা প্রায়ই ছোট শহর বা দূরবর্তী অঞ্চলে যেতে চান, তাদের জন্য এটা বড় স্বস্তি।
“আগে ধরা যাক ব্রাজিল বা পেরুর কোনো ছোট শহরে যেতে চাইলে সেটা বুক করতে গেলে অসম্ভব জটিলতা দেখা দিত। অনেক সময় সরাসরি বুকিংই করা যেত না। এবার সেটা সম্ভব হয়েছে,” অনুষ্ঠানে তিনি বলেন।
তিন শতাধিক এয়ারলাইন্সের সঙ্গে সংযোগ
নতুন প্ল্যাটফর্মের অন্যতম বড় শক্তি হলো এর বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক। এখন বাংলাদেশ থেকে টিকিট কাটলে সেটা ৩৫০টিরও বেশি অংশীদার এয়ারলাইন্সের সঙ্গে সিঙ্ক হয়ে কাজ করবে। এর মানে, কোনো এয়ারলাইন্সের সঙ্গে জোট বা অ্যালায়েন্সে নেই বলে রুট আটকানোর ঘটনা আর ঘটবে না।
ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর জন্যও বিষয়টি বড় সুবিধা তৈরি করেছে। তারা এখন নিজস্বভাবে রুট ডিজাইন করতে পারবে—চাইলে তিন বা চারটি স্টপওভারসহ বহু-শহরের টিকিটও সহজে তৈরি করা যাবে।
হ্যান এয়ারের আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট ভরত কাপুর জানান, এই প্ল্যাটফর্ম আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ও সার্টিফিকেশন বহন করে। প্রতিষ্ঠানটি আইএটিএ এবং আইওএসএ সर्टিফায়েড, এবং তাদের সার্ভিস ডেস্ক ২৪ ঘণ্টা সহায়তা দেয়। দীর্ঘ যাত্রার আগে বা জটিল বুকিং নিয়ে উদ্বেগে থাকলে এই সাপোর্ট অনেক যাত্রীর জন্য মানসিক নিশ্চয়তা দেবে।
শিক্ষার্থী, ব্যবসায়িক ভ্রমণকারী এবং প্রবাসী কর্মীদের জন্য বড় সুবিধা
বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ, কানাডা বা যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য যারা যাচ্ছেন, তাদের প্রায়ই লম্বা কানেকশন বা বহু শহর ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। একইভাবে ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীরা এক ট্রিপে দুই-তিনটি শহর কাভার করতে চান।
HR-169 প্ল্যাটফর্ম ফলে এই জটিল ভ্রমণগুলো এখন অনেক বেশি সাজানো এবং সহজ হয়েছে। শুধু ট্রাভেল এজেন্সি নয়, যাত্রী নিজেও বুঝতে পারবেন তার সামনে আর কী কী বিকল্প রয়েছে।
১,৪০,০০০ ফ্লাইট একসঙ্গে দেখার সুবিধা
হ্যান এয়ারের ইনসাইড সেলস ম্যানেজার নাদিদ শাহরিয়ার অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের জন্য এই প্ল্যাটফর্মে বিএসপি অনুমোদন পেতে দীর্ঘ প্রক্রিয়া পেরোতে হয়েছে। এখন সিস্টেমটি H1 এবং X1 কোডের মাধ্যমে প্রায় ১,৪০,০০০ ফ্লাইট দেখায়।
এগুলোর মধ্যে এমন অনেক কম খরচের বা আঞ্চলিক এয়ারলাইন্সও রয়েছে, যাদের ফ্লাইট আগে বৈশ্বিক বুকিং সিস্টেমে দেখা যেত না। ফলে যাত্রীরা এখন বাজেট বাঁচিয়ে আরও বেশি বিকল্প থেকে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
ADM দাবিত্যাগ এবং Securtix সুরক্ষা
যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং টিকিটের ঝুঁকি কমাতে হ্যান এয়ার তাদের ADM waiver সুবিধা এবং Securtix সুরক্ষা রেখেছে। এর মানে, কোনো অংশীদার এয়ারলাইন্স দেউলিয়া হলে যাত্রীর অব্যবহৃত টিকিটের টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়া হবে।
এটা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এয়ারলাইন্স দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার ঘটনাও নতুন নয়।
বাংলাদেশের ভ্রমণ খাতে নতুন দিগন্ত
সব মিলিয়ে HR-169 প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের জন্য এক ধরনের “ভ্রমণ অবকাঠামো উন্নয়ন”—যা কোনো সরকারি প্রকল্প নয়, কিন্তু এর প্রভাব হবে সারাদেশে।
প্রবাসী কর্মীদের দ্রুত ও সহজ কানেকশন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ রুটে সাবলীল অভিজ্ঞতা এবং ব্যবসায়ী শ্রেণির জন্য সময় বাঁচানো—এই তিন খাতেই পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি দেখা যাবে।
হ্যান এয়ারের এই উদ্যোগ দেখায়, সঠিক প্রযুক্তি আর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা থাকলে একটি দেশের ভ্রমণ বাস্তবতা কেমন বদলে যেতে পারে। এখন দেখার বিষয়—এটা কত দ্রুত সাধারণ যাত্রীর অভিজ্ঞতায় বাস্তব সুবিধা হিসেবে ধরা দেয়।



