
ছবি : সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : দক্ষিণ আফ্রিকা এবার যে ভাবে G20 ফোরামে পর্যটন খাতকে সামনে নিয়ে এসেছে, সেটাকে জাতিসংঘ পর্যটন সংস্থা (UN Tourism) বৈশ্বিক ভ্রমণ ও অর্থনীতির জন্য এক বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছে। সংস্থাটি বলছে—G20 নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে যে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তা ভবিষ্যতে পর্যটন শিল্পের বিস্তার, কর্মসংস্থান এবং টেকসই উন্নয়নের পথে বড় ভূমিকা রাখবে।
পর্যটনকে বৈশ্বিক উন্নয়নের শক্তি হিসেবে তুলে ধরা
G20 নেতারা তাদের যৌথ ঘোষণায় পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন—টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য পর্যটন এখন অপরিহার্য খাত। শুধু বিনোদন বা ভ্রমণের বিষয় নয়; দেশের অর্থনীতি, উদ্যোক্তা তৈরি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি—সব জায়গাতেই পর্যটনের সরাসরি প্রভাব রয়েছে।
ঘোষণাপত্রে বিশেষভাবে বলা হয়েছে—
- আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিমানসংযোগ বাড়ানো
- ভ্রমণ খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ানো
- পর্যটন শিল্পে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেওয়া
- নারী, তরুণ, আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও প্রান্তিক মানুষের জন্য সুযোগ তৈরি করা
- টেকসই পর্যটনে নতুন বিনিয়োগের দরজা খুলে দেওয়া
বিশেষ করে MSME খাতকে এগিয়ে নেওয়ার দিকটি এবার বেশি গুরুত্ব পেয়েছে, কারণ পর্যটন শিল্পে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে ছোট উদ্যোগগুলোই।
দক্ষিণ আফ্রিকার নেতৃত্ব কেন আলাদা?
জাতিসংঘ পর্যটন জানায়—দক্ষিণ আফ্রিকা এবার শুধু সভাপতিত্ব করেনি, তারা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পর্যটনকে রেখেছে। বছরজুড়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বৈঠকে তারা বিমানসংযোগ, ভ্রমণ সহজীকরণ, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন এবং টেকসই বিনিয়োগ—এই চারটি দিক সামনে তুলে ধরে নীতি-আলোচনা চালিয়েছে।
এমপুমালাঙ্গায় অনুষ্ঠিত পর্যটন মন্ত্রীদের বৈঠকটিকে তারা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে। সেখানে মন্ত্রীরা একমত হন—
১.ভ্রমণকে আরও দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন করতে বিমান সংযোগ বাড়াতে হবে
২.পর্যটন খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে
৩.টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে
৪.পুরো শিল্পে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে
জাতিসংঘ পর্যটনের মহাসচিব জুরাব পোলোলিকাশভিলি বলেন—“G20 দেশগুলো বিশ্ব পর্যটনের প্রায় ৭০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করে। তারা যখন পর্যটনের গুরুত্ব নিয়ে একমত হয়, তখন তা পুরো পৃথিবীর জন্যই নতুন দিকনির্দেশনা হয়ে দাঁড়ায়।”
তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার পর্যটন মন্ত্রী প্যাট্রিসিয়া ডি লিলের নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসাকে “উদাহরণযোগ্য সভাপতিত্ব” প্রদর্শনের জন্য অভিনন্দন জানান।
সংখ্যায় উঠে আসছে পর্যটনের সত্যিকার শক্তি
বিশ্ব অর্থনীতিতে পর্যটনের প্রভাব কত বড়—তা G20-এর পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়।
- G20 দেশের সম্মিলিত GDP-র 3.1 শতাংশ আসে পর্যটন থেকে
- মোট রপ্তানির 5 শতাংশ
- পরিষেবা রপ্তানির 21 শতাংশ
- এবং বিশ্বব্যাপী পর্যটকের মোট আগমনের 70 শতাংশ
এই পরিসংখ্যানই দেখায়—পর্যটন শক্তিশালী না হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিও পিছিয়ে পড়বে।
এ কারণেই নেতারা বলছেন—পর্যটনে বিনিয়োগ বাড়াতে হলে সরকারি-বেসরকারি খাতে স্বচ্ছতা আনতে হবে, জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় পর্যটনকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, এবং টেকসই উন্নয়নের মূল কৌশলের মধ্যে পর্যটনকে রাখতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের চোখে বড় অগ্রগতি
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রতিশ্রুতিগুলো শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এগুলো বাস্তবে প্রয়োগ হলে বিশ্ব পর্যটনে নতুন সুযোগ তৈরি হবে। বাড়বে কর্মসংস্থান, বাড়বে উদ্যোক্তাদের ভূমিকা, আর পরিবেশবান্ধব ভ্রমণের ধারণা আরও শক্ত হবে।
মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে বিশ্ব পর্যটন নতুন করে দাঁড়াতে শুরু করেছে। ঠিক এমন সময়ে G20-এর এই নতুন অঙ্গীকার আসা খাতটির জন্য বড় শক্তি হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার সভাপতিত্বে পর্যটন নিয়ে যে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা সামনে এসেছে, সেটা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক পর্যটন শিল্পকে আবারও শক্তিশালী, উদ্ভাবনী এবং টেকসই পথে এগিয়ে নেবে—এমনটাই আশা আন্তর্জাতিক পর্যটন বিশেষজ্ঞদের।



