সৌদি–মার্কিন কৌশলগত সম্পর্ক এক ধাপ ওপরে উঠল: ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের ঘোষণা

ছবি : সংগৃহীত

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ওয়াশিংটনে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সফরকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র–সৌদি সম্পর্ক নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সফরের দ্বিতীয় দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবকে ন্যাটো-বহির্ভূত প্রধান মিত্র হিসেবে ঘোষণা করেন। এই মর্যাদা শুধু প্রতীকী নয়—দুই দেশের সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা গভীর করতে এটি আগামী বছরগুলোতে বাস্তব প্রভাব ফেলবে।

ঘটনার কেন্দ্রটা ছিল মঙ্গলবার সন্ধ্যার একটি বৈঠক। বেশ ঘনিষ্ঠ পরিবেশে অনুষ্ঠিত সেই নৈশভোজে ট্রাম্প পরিষ্কার ভাষায় জানান, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আগের তুলনায় আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে চায়। তার কথায়, ‘এই উদ্যোগ দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা নতুন মাত্রায় নিবে এবং সৌদি আরবকে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ, নন-ন্যাটো মিত্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছি।’

প্রথমেই যা বোঝা যায়, এটি কোনো আলাদা ঘটনা নয়। সোমবার দুই দেশ যে কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে, তারই ধারাবাহিকতায় এমন ঘোষণা এসেছে। সৌদি গণমাধ্যম চুক্তিটিকে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরেছে—কারণ এটি শুধু অস্ত্র কেনাবেচা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক, প্রযুক্তিগত ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতিশ্রুতি বহন করছে।

ওয়াশিংটন সফরে যুবরাজের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের আলোচনার পর একাধিক নতুন উদ্যোগ সামনে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতা নিয়ে এক যৌথ ঘোষণা। হোয়াইট হাউস জানায়, এটি আগামী দশকগুলোতে বিলিয়ন ডলারের প্রযুক্তি ও গবেষণা সহযোগিতার দরজা খুলে দেবে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, পুরো প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ–সংক্রান্ত নিয়ম মেনে করা হবে, তাই নিরাপত্তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।

এই সফরকে কেন্দ্র করে আরেকটি বড় খবর হলো এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন। ট্রাম্প আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জানালেন সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে চতুর্থ প্রজন্মের এ যুদ্ধবিমান পাবে। এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ভারসাম্যে নতুন আলোচনার জন্ম দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ট্রাম্প–সালমান বৈঠকের আলাদা গুরুত্ব আছে। সাত বছরের বেশি সময় পর যুবরাজকে হোয়াইট হাউসে আতিথ্য দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গির বদলকে স্পষ্ট করে। এক সময় মানবাধিকার ইস্যু, ইয়েমেন যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে শীতলতা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই পক্ষই সম্পর্ককে পুনর্গঠন করতে আগ্রহী হয়েছে—সম্ভবত চীনের বেড়ে ওঠা প্রভাব ও মধ্যপ্রাচ্যের নতুন জোটগঠনের বাস্তবতা তাদের এমন সিদ্ধান্তে নিয়ে এসেছে।

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাম্প্রতিক পররাষ্ট্রনীতিতে দুই বিষয় স্পষ্ট—একদিকে সৌদি আরব স্বনির্ভর নিরাপত্তা কাঠামো গঠনে গতি বাড়াতে চাইছে, অন্যদিকে পশ্চিমা শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখতে আগ্রহী। এই প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নন-ন্যাটো প্রধান মিত্র মর্যাদা তাদের হাতে বড় কূটনৈতিক সুবিধা এনে দিতে পারে।

ওয়াশিংটনের বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে যে বার্তা পরিষ্কার—উভয়পক্ষই আগামীর দশকগুলোতে যৌথ নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, জ্বালানি সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ বাড়াতে চাইছে। বিশেষ করে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে যে কাঠামো তৈরি হচ্ছে, তা শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে ট্রাম্পের ঘোষণা শুধু একটি মর্যাদা দেওয়া নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্র–সৌদি সম্পর্কের নতুন পর্যায়ের দরজা খুলে দিল। মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত সমীকরণে এই পদক্ষেপের প্রভাব কীভাবে প্রকাশ পাবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Read Previous

দুবাই এয়ারশোতে ফ্লাইদুবাই–এয়ারবাস চুক্তি: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে নতুন এক অধ্যায়

Read Next

রামুর রাংকুট মহা বৌদ্ধবিহার: পর্যটনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular