
ছবি: সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান এখন আরও আধুনিক রূপে দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাচ্ছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এখানে চালু হয়েছে QR-ভিত্তিক ই-টিকিটিং ব্যবস্থা, যা দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ প্রক্রিয়াকে করবে দ্রুত, স্বচ্ছ এবং পরিবেশবান্ধব। বুধবার (১২ নভেম্বর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ডিজিটাল টিকিটিং সিস্টেমের উদ্বোধন করেন।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে বন বিভাগ ও উদ্ভাবনী সংস্থা a2i (অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন)। এর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা এখন ঘরে বসেই অনলাইনে টিকিট কিনতে পারবেন myGov (www.nbg.portal.gov.bd) অথবা বন বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে। টিকিট ক্রয়ের পর তারা মোবাইল ফোনে পাওয়া QR কোড স্ক্যান করে সহজেই উদ্যানের প্রবেশপথে প্রবেশ করতে পারবেন। প্রিন্ট করা কপিও ব্যবহার করা যাবে, ফলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা থেকে মুক্তি মিলবে।
ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, “জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে এই ই-টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশে স্মার্ট সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনার একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগ শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার নয়, এটি আমাদের বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রচেষ্টারও একটি অংশ।” তিনি আরও বলেন, এই সিস্টেমের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা সময় বাঁচাতে পারবেন এবং একই সঙ্গে কাগজের ব্যবহার কমে পরিবেশ সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখবে।
সচিব আরও উল্লেখ করেন, “পরিবেশবান্ধব এই ব্যবস্থা দেশের অন্যান্য বনভূমি, ইকোপার্ক এবং সংরক্ষিত এলাকাতেও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। এতে প্রযুক্তিনির্ভর সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং জনগণের পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন a2i-এর প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. আব্দুর রফিক এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বন) শামীমা বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসেন চৌধুরী।
বন বিভাগ জানিয়েছে, এই ই-টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম চালুর ফলে টিকিট বিক্রয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনাও আরও উন্নত হবে। পাশাপাশি টিকিট সংক্রান্ত জালিয়াতি বা অপচয়ের সুযোগও থাকবে না। সিস্টেমটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে প্রতিটি বিক্রিত টিকিটের হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে ডিজিটাল রেকর্ডে সংরক্ষিত থাকে।
জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বোটানিক্যাল গার্ডেন, যেখানে ৩৫ হাজারেরও বেশি প্রজাতির দেশি-বিদেশি গাছপালা রয়েছে। প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী এখানে ভ্রমণে আসেন। নতুন ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালুর ফলে এই বিশাল পরিসরে দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনা হবে আরও সুশৃঙ্খল।
উদ্ভিদ উদ্যানের কর্মকর্তারা জানান, QR-ভিত্তিক প্রবেশ ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে ভবিষ্যতে দর্শনার্থীর সংখ্যা, তাদের ভ্রমণের ধরন ও সময়কাল সম্পর্কিত তথ্যও সহজে বিশ্লেষণ করা যাবে, যা উদ্যানের ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সহায়ক হবে।
a2i কর্মকর্তারা বলেন, “ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের যাত্রায় এই প্রকল্পটি একটি বাস্তব উদাহরণ। এটি নগর ও প্রকৃতির মধ্যে প্রযুক্তি-চালিত সংযোগ গড়ে তুলছে।”
সব মিলিয়ে, জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে QR-ভিত্তিক ই-টিকিটিং শুধু একটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়, এটি পরিবেশ সংরক্ষণ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



