
ছবি: সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনের কাছে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গ ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ট্রেন চলাচল চার ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে উদ্ধার কাজ শেষ হয় এবং মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস পুনরায় যাত্রা শুরু করে।
জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ হাসান গণমাধ্যমকে জানান, “দুপুরে ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়। বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হয়, এরপর সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে ট্রেনটি যাত্রীসহ মোহনগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।”
কীভাবে ঘটেছিল দুর্ঘটনাটি
শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে ঢাকা থেকে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জগামী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস জয়দেবপুর জংশনের অদূরে পৌঁছালে হঠাৎ যাত্রীবাহী দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই ট্রেনের গতি থেমে যায় এবং পুরো লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গ ও ময়মনসিংহগামী বেশ কয়েকটি ট্রেন স্টেশনগুলোতে আটকে পড়ে।
ট্রেনের শত শত যাত্রী তখন চরম ভোগান্তিতে পড়েন। কেউ কেউ স্টেশনে নামতে বাধ্য হন, অনেকে ট্রেনেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। গরমে ও পর্যাপ্ত বাতাস না থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
দ্রুত ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল
খবর পেয়ে রেলওয়ের দুটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বেলা আড়াইটার দিকে উদ্ধার কাজ শুরু হয়। ভারী ক্রেন ব্যবহার করে একের পর এক বগি উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে লাইনচ্যুত বগিগুলো সফলভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এরপর দ্রুত ট্রেন লাইন মেরামত করে পুনরায় চলাচলযোগ্য করা হয়।
যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া
ঘটনার সময় ট্রেনে থাকা এক যাত্রী বলেন, “হঠাৎ করেই একটা ঝাঁকুনি অনুভব করি। পরে দেখি ট্রেন থেমে গেছে। কেউ কেউ ভয় পেয়ে নিচে নেমে পড়েন। তবে বড় কোনো দুর্ঘটনা না হওয়ায় আমরা ভাগ্যবান।”
আরেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চার ঘণ্টা ধরে ট্রেনে বসে থাকতে হয়েছে। কোনো ঘোষণা বা সহযোগিতা পাইনি শুরুতে। রেলওয়ে কর্মকর্তারা পরে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।”
বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লাইনচ্যুতির কারণ প্রাথমিকভাবে ট্র্যাকের যান্ত্রিক ত্রুটি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
জয়দেবপুর স্টেশন মাস্টার বলেন, “সময়মতো উদ্ধারকারী দল পৌঁছে যাওয়ায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। আমরা দ্রুত লাইন সচল করেছি, এখন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক।”
স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল
লাইনচ্যুত বগি উদ্ধারের পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস পুনরায় মোহনগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। এর পরপরই উত্তরবঙ্গ ও ময়মনসিংহমুখী অন্য ট্রেনগুলোর চলাচলও স্বাভাবিক হয়।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ট্র্যাক ও বগি নিয়মিত পরিদর্শন জোরদার করা হবে। ট্রেন চালক ও সহকারীদেরও এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
সংক্ষেপে বললে, সময়মতো উদ্ধার অভিযান শুরু না হলে জয়দেবপুরের এই লাইনচ্যুতি সহজেই বড় ধরনের দুর্ঘটনায় পরিণত হতে পারত। দ্রুত পদক্ষেপ ও রেলওয়ে কর্মকর্তাদের সমন্বিত উদ্যোগেই চার ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। যাত্রীদের সাময়িক ভোগান্তি হলেও, হতাহতের খবর না থাকায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সবাই।ছবি




One Comment
https://shorturl.fm/Amu07