১৮/০৪/২০২৬
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাহাড়ঘেরা ঝিরিপথের পায়ে পায়ে রোমাঞ্চ, অদেখা ‘ধুমনি ঘাট’ এখন নতুন ভ্রমণ গন্তব্য

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার পাহাড়ি কোলে লুকিয়ে আছে এক মনভোলানো প্রাকৃতিক রত্ন—ধুমনি ঘাট। এখনো খুব কম পর্যটকই জানেন এই জায়গার কথা। তবে যারা গিয়েছেন, তারা জানেন এখানকার নীরবতা, ঝরনার কলতান আর পাহাড়ের সৌন্দর্য একসঙ্গে মিলে এক অন্যরকম অনুভূতি দেয়।

সবুজ পাহাড়ে ঘেরা এই পথে হাঁটলেই চোখে পড়বে জুমঘর, নাম না-জানা পাহাড়ি ফুল, আঁকাবাঁকা পাথুরে পথ আর স্থানীয়দের সাদামাটা জীবনযাপন। সকালবেলায় হালকা কুয়াশা, ঝরনার ধারা আর পাখির ডাক—সব মিলিয়ে মনে হবে যেন পাহাড় সদ্য ঘুম থেকে জেগে উঠেছে।

মহালছড়ি থেকে সিন্দুকছড়ি যাওয়ার পথে সেনা ক্যাম্পের বিপরীতে পাহাড়ের নিচে নামলেই ধুমনি ঘাট। জায়গাটিতে পৌঁছাতে সরু পাহাড়ি পথে প্রায় আধা কিলোমিটার হাঁটতে হয়। পথে ছোট ছোট ঝিরি, বুনো গাছপালা আর পাথুরে রাস্তা—পুরো পথটাই এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।

ধুমনি ঘাটের নামের গল্প

স্থানীয়দের মতে, পাহাড়ের ভেতর দিয়ে ঝরনার পানি প্রবাহিত হওয়ার সময় ‘ধুম ধুম’ শব্দ হয়, সেই শব্দ থেকেই জায়গাটির নাম ‘ধুমনি’। তবে আরেকটি গল্পও প্রচলিত—অনেক বছর আগে এখানে ধুমনি নামে এক পাহাড়ি নারী বাস করতেন, তাঁর নামেই জায়গাটির নামকরণ।

সংস্কৃতি ও বিশ্বাস

ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর কাছে ধুমনি ঘাট শুধু প্রাকৃতিক নয়, ধর্মীয় দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ ধর্মীয় দিনে এখানে পূজা, কীর্তন ও আরাধনা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী এখানে রাম, লক্ষ্মণ ও সীতার পদচিহ্ন রয়েছে, যা তারা গভীর শ্রদ্ধায় পূজা করেন।

কখন ও কীভাবে যাবেন

বর্ষাকাল বা সকালবেলা ধুমনি ঘাটের আসল সৌন্দর্য ধরা দেয় চোখে। ঢাকায় বা চট্টগ্রাম থেকে প্রথমে যেতে হবে খাগড়াছড়ির গুইমারা জালিয়াপাড়ায়। সেখান থেকে সিন্দুকছড়ি-মহালছড়ি সড়ক ধরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল বা প্রাইভেট গাড়িতে সহজেই পৌঁছানো যায় ধুমনি ঘাটে। সময় লাগবে আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ মিনিট।

খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে যেতে চাইলে আগে মহালছড়ি পৌঁছাতে হবে, সময় লাগে ৪০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা। তারপর মহালছড়ি থেকে সিন্দুকছড়ি যেতে আরও ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে। মহালছড়িতে রাত কাটানোর সুযোগ সীমিত, তাই খাগড়াছড়ি শহরে থাকার ব্যবস্থা করাই ভালো।

সতর্কতা

ধুমনি ঘাটে নামার সময় সাবধান থাকা জরুরি। পাহাড়ি পথের অনেক জায়গায় পাথর পিচ্ছিল এবং ঝরনার নিচের ঝিরিতে গভীর গর্ত রয়েছে। তাই পানিতে নামা বা ছবি তোলার সময় সতর্ক থাকা ভালো।

প্রকৃতি, নিস্তব্ধতা আর রোমাঞ্চ—তিনের মিশ্রণে ধুমনি ঘাট এখন খাগড়াছড়ির এক অদেখা আকর্ষণ, যা একবার দেখলে ভুলে থাকা যায় না।

Read Previous

বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য সুরিনাম ভিসা গাইড — ধাপে ধাপে সব তথ্য এক জায়গায়

Read Next

ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক স্থগিত: ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ‘অসার আলোচনায়’ আগ্রহী নন ট্রাম্প

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular