
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য নতুন ভ্রমণ নীতিমালা ঘোষণা করেছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের ওপর। এখন থেকে মালিতে প্রবেশ করতে চাইলে মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হবে—এমনটাই জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নীতির পাল্টা পদক্ষেপ
মালি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র আগে একতরফাভাবে আফ্রিকার কয়েকটি দেশের ওপর একই ধরনের ভিসা সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। তাই তারা ‘সমপর্যায়ের ভিসা কর্মসূচি’ চালু করেছে। বিষয়টি ঘোষণার পর থেকেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনায় পড়েছে।
মালিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, এই বন্ড ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নীতির অংশ হিসেবে দেখা উচিত। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত একটি চাপের কৌশল, যা ভ্রমণ ও কূটনৈতিক চলাচল আরও জটিল করবে।
পর্যটন খাতে প্রভাব কী হতে পারে?
মালি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঐতিহাসিক তিম্বুক্তু নগরী, সাহারা মরুভূমির রুট এবং সাহেল অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ভ্রমণপথ ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছিল। মার্কিন পর্যটকদের জন্য বন্ড বাধ্যতামূলক হওয়ায়—
- ট্যুর অপারেটরদের প্যাকেজে বাড়তে পারে অতিরিক্ত চার্জ
- স্বল্পমেয়াদি ব্যাকপ্যাকার ও ট্রাভেল ফটোগ্রাফারদের ভ্রমণ নিরুৎসাহিত হতে পারে
- ব্যবসায়িক পর্যটন, বিশেষ করে সোনা ও লিথিয়াম খাত নিয়ে আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব পড়তে পারে
পটভূমিতে সেনাশাসন ও ভূরাজনীতি
২০২১ সালে জেনারেল আসিমি গোইতা ক্ষমতা দখলের পর মালি পশ্চিমা প্রভাব কমিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করে। ফরাসি সেনাদের বিদায় ও রাশিয়ার ওয়াগনার গ্রুপ (বর্তমানে ‘আফ্রিকা কর্পস’) প্রবেশ—এসব ঘটনা দেশটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে নতুন মোড়ে নিয়ে যায়।
ঠিক এমন সময়েই যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক আফ্রিকান দেশের ওপর ভিসা নীতি কঠোর করতে শুরু করে, যার প্রভাব পড়ছে পর্যটন ও ভ্রমণ বাজারে।ক
পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, আফ্রিকা ঘুরতে ইচ্ছুক মার্কিন পর্যটকদের জন্য এটি হতে পারে আফ্রিকা ভ্রমণের সবচেয়ে ব্যয়সাপেক্ষ বাধা। মালি সরকারের এই সিদ্ধান্ত আফ্রিকায় ভ্রমণ প্রবণতা ও ভিসা নীতির ভবিষ্যতে আরও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।



