
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: টাংগাইল শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে করটিয়া ইউনিয়নের মহেরা গ্রামে দাঁড়িয়ে আছে মহেরা জমিদার বাড়ি। শুধু একটি পুরনো প্রাসাদ নয়, এ বাড়ি এখন ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির এক বিশাল ভাণ্ডার।
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
প্রায় দেড়শো বছর আগে, জমিদার কালীচরণ সাহা, আনন্দ সাহা, প্রমোদ সাহা ও আর্য্য সাহারা মহেরা জমিদার বাড়ি নির্মাণ করেন। বিশাল প্রাসাদ, বাগান, পুকুর আর অলংকৃত স্থাপত্য শৈলীতে গড়া এ বাড়ি ছিল জমিদার পরিবারের আভিজাত্যের প্রতীক। পাকিস্তান আমলে এটি পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে মহেরা জমিদার বাড়ি বাংলাদেশ পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের (PTC) অধীনে পরিচালিত হলেও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত।
স্থাপত্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
মহেরা জমিদার বাড়িতে মোট চারটি বিশাল প্রাসাদ রয়েছে – চৌধুরী লজ, আনন্দ লজ, কালীচরণ লজ ও মহারাজ লজ। প্রতিটি প্রাসাদের আলাদা নকশা, ইউরোপীয় ধাঁচের বারান্দা, রঙিন জানালা আর অলঙ্কৃত দেয়াল মুগ্ধ করে। চারপাশে সবুজ বাগান, শতবর্ষী বৃক্ষ আর পুকুর মিলিয়ে জায়গাটি একেবারেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর।
সংস্কৃতি ও পর্যটন গুরুত্ব
এ জমিদার বাড়ি শুধু ঐতিহাসিক নয়, সংস্কৃতি ও পর্যটনের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি বছর হাজারো দর্শনার্থী এখানে ঘুরতে আসেন। নাটক, সিনেমা আর টেলিভিশন নাটকের শুটিংও হয় নিয়মিত। স্থানীয় মানুষদের জন্য এটি কর্মসংস্থানেরও উৎস হয়ে উঠেছে।
যাতায়াত ব্যবস্থা
ঢাকা থেকে মহেরা জমিদার বাড়ি যেতে প্রথমে টাংগাইল শহরে আসতে হবে। ঢাকার গাবতলী, মহাখালী বা সায়েদাবাদ থেকে টাংগাইলগামী বাস পাওয়া যায় নিয়মিত। টাংগাইল শহর থেকে সিএনজি বা অটোরিকশায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিটেই পৌঁছানো যায় মহেরা জমিদার বাড়ি।
- ঢাকা থেকে টাংগাইল বাস ভাড়া: আনুমানিক ২০০–৩০০ টাকা (নন-এসি), ৩৫০–৪৫০ টাকা (এসি)
- টাংগাইল শহর থেকে মহেরা ভাড়া: সিএনজি বা অটোরিকশায় ১৫০–২০০ টাকা
প্রবেশমূল্য ও খরচ
পর্যটকদের জন্য প্রবেশমূল্য খুবই সামান্য।
- প্রবেশমূল্য: জনপ্রতি ২০ টাকা
- ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ ছাড় আছে
- যদি দল বেঁধে ভ্রমণ হয়, তখন গ্রুপ টিকেটের ব্যবস্থা রয়েছে
থাকার ব্যবস্থা
মহেরা জমিদার বাড়ির ভেতরে রাত যাপনের সুযোগ নেই, তবে টাংগাইল শহরে হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে।
- সাধারণ হোটেল ভাড়া: রাতপ্রতি ৫০০–১০০০ টাকা
- ভালো মানের হোটেল বা রিসোর্ট: ১৫০০–৩০০০ টাকা পর্যন্ত
ভ্রমণ টিপস
- দুপুরে জমিদার বাড়ির চারপাশে সময় কাটাতে চাইলে সঙ্গে খাবার নিয়ে যেতে পারেন
- শীতকালে জায়গাটি সবচেয়ে আরামদায়ক, তবে বর্ষাকালে সবুজ প্রকৃতির রূপ হয় অনন্য
- ক্যামেরা নিতে ভুলবেন না, কারণ প্রতিটি কোণেই ফ্রেমবন্দি করার মতো দৃশ্য পাবেন
মহেরা জমিদার বাড়ি শুধু একটি প্রাচীন স্থাপত্য নয়, এটি টাংগাইল তথা বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অমূল্য সম্পদ। স্বল্প খরচে ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মেলবন্ধন উপভোগ করতে চাইলে মহেরা জমিদার বাড়ি হতে পারে সেরা গন্তব্য।



