
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে চট্টগ্রামের বিএনপিতে আবারও পরিবারতন্ত্রের প্রশ্ন উঠেছে। পাঁচটি আসনে প্রয়াত শীর্ষ নেতাদের সন্তানরা এখন মনোনয়নের দৌড়ে, আর তৃণমূলের বহু পুরোনো কর্মীরা এতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
চট্টগ্রাম বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় আছেন ইস্রাফিল খসরু, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সাঈদ আল নোমান, শাকিলা ফারজানা, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী ও মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী। এঁরা সবাই বিএনপির প্রভাবশালী প্রয়াত বা বর্তমান নেতাদের সন্তান।
তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, রাজনীতিতে যোগ্যতা বা ত্যাগের চেয়ে পারিবারিক পরিচয়কে বড় করা হচ্ছে। এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বছরের পর বছর কারাভোগ করে, আন্দোলনে রাস্তায় থেকে আমরা লড়েছি। অথচ নির্বাচনের সময় শুধু ‘নেতার ছেলে’ পরিচয়েই মনোনয়ন চলে যায়।”
চট্টগ্রামের রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতা আমীর খসরুর ছেলে ইস্রাফিল এখন সরাসরি আসনে লড়তে চান। একইভাবে সাবেক মন্ত্রী মীর নাছিরের ছেলে হেলাল, প্রয়াত নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ, সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে শাকিলা, জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর দুই ছেলে জহিরুল ও মিশকাতুল এবং সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম সক্রিয়ভাবে প্রচারণায় নেমেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিবারতন্ত্র দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির পুরোনো প্রবণতা হলেও এটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. বখতেয়ার উদ্দিন পর্যটন সংবাদকে বলেন, “বাবার স্থলাভিষিক্ত হয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ অনেক ক্ষেত্রেই জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে দুর্বল করে। এতে তৃণমূল থেকে উঠে আসা কর্মীদের অগ্রযাত্রা আটকে যায়।”
চট্টগ্রামে মোট ১৬টি আসনের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বন্দরকেন্দ্রিক আসনগুলো সব সময় গুরুত্ব পেয়ে এসেছে। এবারও সেসব আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী হয়ে শীর্ষ নেতাদের উত্তরাধিকারীরা মাঠে নামায় আলোচনা-সমালোচনা দুই-ই তীব্র হয়েছে।



