
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়াগুলোর একটি কেউকারাডং। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৩,১৭২ ফুট। বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই পাহাড়চূড়া শুধু ট্রেকিংপ্রেমী নয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যপিপাসু ভ্রমণকারীদের কাছেও স্বপ্নের গন্তব্য।
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
কেউকারাডং পাহাড় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বম, ম্রো ও চাকমা আদিবাসীদের বসতি অঞ্চল। তাদের লোককাহিনী, গান, উৎসব ও ঐতিহ্যের ভেতর দিয়েই এই পাহাড়ের ইতিহাস বয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, পাহাড়ের চূড়ায় দেবতার আশীর্বাদ রয়েছে। এখানকার আদিবাসী সংস্কৃতি এখনো প্রকৃতিনির্ভর জীবনধারা ধরে রেখেছে।
সংস্কৃতি ও জীবনধারা
ভ্রমণে গেলে দেখা যায় স্থানীয়দের ঘরবাড়ি, পোশাক, খাবার, এমনকি নিজস্ব উৎসব। বিশেষত বম জনগোষ্ঠীর নৃত্য-গান পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। পাহাড়ের পথে পথে জুমচাষ, বাঁশের ঝোপ, বুনোফুল আর গ্রামীণ জীবনের সরলতা ভ্রমণকে করে তোলে ভিন্নধর্মী।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
চূড়ার পথে ট্রেক করতে করতে চোখে পড়বে পাহাড়ি ঝরনা, আঁকাবাঁকা পথ আর ঘন জঙ্গলের মায়া। শীতকালে সকালের কুয়াশায় পাহাড়গুলো যেন মেঘের রাজ্য। আবার বর্ষায় ঝরনার রূপ হয়ে ওঠে মনকাড়া। কেউকারাডংয়ের চূড়া থেকে সূর্যোদয় বা সূর্যাস্ত দেখা এক অনন্য অভিজ্ঞতা—একপাশে নীল আকাশ, অন্যপাশে সবুজ পাহাড়ের ঢেউ।
যাতায়াত ব্যবস্থা
- ঢাকা থেকে বান্দরবান: বাসে ভাড়া ১২০০–২০০০ টাকা (এসি/নন-এসি অনুযায়ী)।
- বান্দরবান শহর থেকে রুমা বাজার: লোকাল জিপে ভাড়া ২০০–৩০০ টাকা।
- রুমা থেকে বগালেক: চাঁদের গাড়ি বা জিপ ভাড়া জনপ্রতি ২০০–৩০০ টাকা।
- বগালেক থেকে কেউকারাডং যেতে হবে পায়ে হেঁটে ট্রেকিং করে। সময় লাগবে ৪–৬ ঘণ্টা।
খরচ
- ঢাকা–বান্দরবান রিটার্ন বাস ভাড়া: ২,০০০–৩,৫০০ টাকা।
- স্থানীয় জিপ ভাড়া: ৫০০–৮০০ টাকা (প্রতি জন)।
- গাইড ফি: ১,০০০–১,৫০০ টাকা।
- খাওয়া–দাওয়া: দৈনিক ৩০০–৫০০ টাকা।
- মোটামুটি বাজেটে একজন ভ্রমণকারীর ৩ দিনের জন্য খরচ দাঁড়ায় ৫,০০০–৭,০০০ টাকার মধ্যে।
থাকার ব্যবস্থা
- বগালেক: সরকারি ডাকবাংলো, আর্মি ক্যাম্পের কটেজ ও স্থানীয়দের হোমস্টে পাওয়া যায়।
- কেউকারাডং চূড়া: সীমিত কিছু হোমস্টে আছে, যেখানে প্রতি রাতে জনপ্রতি ৩০০–৫০০ টাকায় থাকা যায়।
- বান্দরবান শহর: হোটেল হিল ভিউ, হোটেল প্লাজা বান্দরবানসহ বিভিন্ন হোটেল–রিসোর্ট আছে (রুম ভাড়া ১০০০–৩০০০ টাকা)।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
- ট্রেকিং করার সময় স্থানীয় গাইড অবশ্যই নিতে হবে।
- প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার, পানি, ট্রেকিং জুতা, টর্চলাইট সঙ্গে রাখতে হবে।
- পাহাড়ে রাত কাটানোর সময় আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
- স্থানীয় সংস্কৃতি ও রীতিনীতি সম্মান করা জরুরি।
কেউকারাডং শুধু একটি পাহাড় নয়, এটি প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও রোমাঞ্চের এক অসাধারণ সমন্বয়। একদিকে পাহাড়ের কঠিন ট্রেকিং, অন্যদিকে স্থানীয়দের সরল জীবনধারা—সব মিলিয়ে এখানে ভ্রমণ এক অমলিন অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।



