
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: কাতারের রাজধানী দোহায় বসেছিল আরব লীগ ও ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) জরুরি বৈঠক। উদ্দেশ্য ছিল—গত সপ্তাহে হামাস নেতাদের বৈঠকে ইসরায়েলের হামলার পর কাতারের পাশে দাঁড়ানো।
সম্মেলন শেষে নেতারা ইসরায়েলবিরোধী দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছেন এবং দোহাকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে কোনো পদক্ষেপের ঘোষণা আসেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে—অঢেল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও আরব দেশগুলো ইসরায়েল বা তার প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রকে কার্যত কোনো চাপ দিতে পারছে না।
ইতিহাস অবশ্য ভিন্ন চিত্র দেখায়। ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে সৌদি আরবসহ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলপন্থী রাষ্ট্রগুলোর ওপর তেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। এতে পশ্চিমা অর্থনীতি হোঁচট খায় এবং যুদ্ধবিরতি ত্বরান্বিত হয়। কিন্তু আজ গাজায় নিহতের সংখ্যা যখন ৬৫ হাজার ছাড়িয়েছে—যার বড় অংশ নারী ও শিশু—তখনো আরব নেতৃত্ব কার্যকর কোনো অবস্থান নিতে পারছে না।
বেইরুট আমেরিকান ইউনিভার্সিটির বিশ্লেষক রামি খুরি মনে করেন, আরব সরকারগুলো কখনোই পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করতে পারেনি। নিজেদের টিকে থাকা ও উন্নতির জন্য তারা এখনো বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভরশীল। এর জ্বলন্ত উদাহরণ কাতার—যে দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্র ২০২২ সালে ‘প্রধান নন-ন্যাটো মিত্র’ ঘোষণা করেছিল এবং যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বিমানঘাঁটি অবস্থিত।
সম্মেলনে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আল-বুদাইউই আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র তার প্রভাব ব্যবহার করে ইসরায়েলকে থামাবে। কিন্তু এ আশা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত আগস্টে মজা করে বলেছিলেন, “গাজায় কী হবে, তা ইসরায়েলের সিদ্ধান্ত।”
ফলে মঙ্গলবার ভোরে যখন ইসরায়েল গাজা সিটিতে স্থল অভিযান শুরু করে, দোহা সম্মেলনের বিবৃতি সেটিকে একটুও থামাতে পারেনি।



